২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
পাঁচটি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি প্ল্যাটফর্ম- ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ’, সারাদেশে গণভোটের হ্যাঁ-র পক্ষে গণজমায়েত ও প্রচার চালাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মুক্তিকামী ছাত্রজনতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণভোটের হ্যাঁ-র পক্ষে সক্রিয় করতে পরিকল্পনা করেছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ক্যাম্পেইনের কর্মসূচি ঘোষণা নির্বাচিত ৫ ছাত্র সংসদের— ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংসদ’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
আবু সাদিক কায়েম বলেন, আমাদের দেশের ছাত্রজনতা ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানেই স্বাধীনতা, হ্যাঁ মানেই ইনসাফ। গত ৫৪ বছরে আমরা যে গোলাম মধ্য দিয়ে গিয়েছি এবং শেষ ১৬ বছরে যে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর মধ্যে আমরা চলেছি, আমরা আর তা দেখতে চাই না। এই কাঠামোকে উন্মূল করার জন্য আমাদের বহু ভাই-বোন জীবন দিয়েছে এবং ছাত্র ও শ্রমিক শহীদ হয়েছেন। সর্বশেষ শহীদ ওসমান হাদির জীবন উৎসর্গ হয়েছে ইনসাফের পক্ষে। তাই এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে বিজয়ী করা একান্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, এই গণভোটের হ্যাঁ ক্যাম্পেইনকে শক্তিশালী করার জন্য আমরা সারাদেশে বিভাগীয় গণজমায়েত শুরু করছি। আগামীকাল সিলেটের বন্দরবাজার পুট পয়েন্টে দুপুর ২টায় একটি গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। এসময় সকল ফেসবি বিরোধী রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, প্রেস ক্লাবের সভাপতি, শিল্পকলা একাডেমি, ক্রীড়া সংস্থা, শ্রমিক প্রতিনিধি, শিক্ষক, ডাক্তার ও অন্যান্য পেশাজীবীকে আহ্বান জানানো হয়েছে। আমরা চাই সর্বস্তরের মানুষ যেন গণভোটের হ্যাঁ-র পক্ষে এগিয়ে আসে।
কায়েম বলেন, ডাকসু, জাকশু, রাকসু, চাকসু এবং জকসু এই পাঁচটি ছাত্র সংগঠনের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বেন এবং সারা দেশজুড়ে গণভোটের হ্যাঁ-র পক্ষে প্রচারণা চালাবেন। হ্যাঁ মানেই বাংলাদেশ, হ্যাঁ মানেই ইনসাফ। হ্যাঁ মানেই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠন, যাতে দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদী কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠা না পায়। আমরা চাই স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হোক এবং বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।
তিনি সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করতে হলে এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে বিজয়ী করতে হবে। এজন্য আমরা সারাদেশে গণজমায়েত এবং গণজোয়ার চালিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যেই জনগণ গণপের হ্যাঁ-কে বিজয়ী করার জন্য গণজমায়েত শুরু করেছে। আমরা আশা করি ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের মুক্তিকামী ছাত্রজনতা এই গণভোটে হ্যাঁ-র পক্ষে নিজেদের রায় দেবে।
আবু সাদিক কায়েম আরও জানান, আমরা ইতিমধ্যেই সকল রাজনৈতিক দলকে এই গণজমায়েতে দাওয়াত দিয়েছি। বিএনপি, জামায়াত-ইসলামী, এনসিপিসহ সকলকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে। আমরা আশা করি তারা আসবেন এবং এই গণজমায়েতগুলোতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানাবেন। ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে হ্যাঁ-র পক্ষে সক্রিয় হয়েছে। তবে আমরা চাই বড় রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানাবে, যাতে সারাদেশে ছাত্রজনতা এককভাবে হ্যাঁ-র পক্ষে আন্দোলন চালাতে পারে। আমাদের আহ্বান থাকবে সর্বস্তরের ছাত্র, নাগরিক ও শ্রমিক শ্রেণির সবাইকে গণভোটের হ্যাঁ-র পক্ষে অংশগ্রহণ করতে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন-রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস এম সালমান সাব্বির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল আলিম আরিফ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।