৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা- ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে কঠোর পরিণতি ভোগ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই ইউরোপীয় দেশগুলো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কোন সন্দেহ নেই, ইউরোপীয়দের আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার এই শত্রুতামূলক পদক্ষেপের জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।’
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে তিনি আরও বলেন, ‘তারা (ইইউ) তাদের এই বোকামির পরিণতি ভোগ করবে।’ তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি এজেই।
এছাড়াও গত বছর পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পর এবার আইআরজিসি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে ‘আরেকটি বড় কৌশলগত ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
ইরানের সামরিক বাহিনীও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং বিদ্বেষ-প্রণোদিত পদক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছে, ২৭ দেশের জোট- ইইউ তেহরানের চিরশত্রু যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের ‘আনুগত্য’ পালনে এই কাজ করছে।
এরআগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায় ইইউ। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইআরজিসিকে এখন থেকে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সমপর্যায় হিসেবে গণ্য করা হবে।
এ বিষয়ে ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের বলেন, গত মাসে অর্থনৈতিক মন্দার প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের ওপর নৃশংস দমন-পীড়নের সময় ছয় হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করা হলে ইরান ও ইউরোপের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য আলোচনাও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ২১ জন ইরানি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে ইইউ। নিষেধাজ্ঞার ফলে এই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ইউরোপে থাকা সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং ইইউ-ভুক্ত রাষ্ট্রগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হবে।
উল্লেখ্য, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস বা বিপ্লবী গার্ড বাহিনী- ইরানের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী শাখা এবং দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনি ইসলামী বিপ্লব রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত করেন এই বাহিনী। এটি নিয়মিত সেনাবাহিনী থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং শুধুমাত্র সর্বোচ্চ নেতার আদেশ পালন করে।
সূত্র: দ্য নিউ আরব