রিকশা প্রতীকে ভোট চাওয়ার অভিযোগে কওমী শিক্ষক চাকরিচ্যুত

০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে রিকশা প্রতীকে ভোট চাওয়ার অভিযোগে হাফেজ মো. মুকতার হুসাইন (৫০) নামে এক কওমী মাদরাসা শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে সালথা উপজেলা খেলাফত মজলিস কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষক নিজেই এ অভিযোগ করেন।

হাফেজ মো. মুকতার হুসাইন সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া রহমানিয়া তালতলা মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি নগরকান্দা উপজেলার ইশ্বর্দী গ্রামে।

সংবাদ সম্মেলনে হাফেজ মুকতার হুসাইন অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মাদরাসায় নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছিলেন।

এ সময় মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা হেদায়েত উল্লাহর ভাই কাইয়ুম মোল্যা এবং স্থানীয় ফজলুল মাতুব্বর মাদরাসায় এসে তাঁকে শ্রেণিকক্ষ থেকে বাইরে ডেকে নেন। পরে তারা প্রথমে তাঁর প্রশংসা করে জানতে চান, তিনি কি রিকশা প্রতীকে ভোট চাইছেন এবং হুজুরের নির্বাচনী সভায় অংশ নিচ্ছেন কি না।

তিনি আরও বলেন, “আমি তাদের জানাই, হুজুরকে ভালোবাসি বলেই তাঁর পক্ষে ভোট চাইছি। এ কথা বলার পর কাইয়ুম মোল্যা আমাকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করেন এবং হুমকি দেন। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আমার বকেয়া বেতন পরিশোধ করে আমাকে চাকরি থেকে বিদায় করে দেয়। আমি এই ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।”

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন সালথা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “ফরিদপুর-২ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আল্লামা আকরাম আলী হুজুরের পক্ষে ভোট চাওয়ার কারণে আমাদের একজন কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সালথা ও নগরকান্দা উপজেলায় সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই। বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে সালথা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলেও কোনো তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

তবে হুমকি ও গালাগালির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার মোহতামিমের ভাই কাইয়ুম মোল্যা। তিনি বলেন, “হাফেজ মুকতার হুসাইন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। তাঁকে কোনো ধরনের হুমকি বা গালাগালি করা হয়নি। তিনি আগেও একবার মাদরাসা থেকে চাকরি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, পরে আবার যোগ দেন।”

কাইয়ুম মোল্যা আরও দাবি করেন, “মাঝেমধ্যে তিনি ছাত্রদের মারধর করতেন। তারপরও তিনি একজন হাফেজ হওয়ায় সম্মান করে আমরা কিছু বলিনি। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে তিনি ক্লাস চলাকালীন মাদরাসার ছাত্রদের কাছে রিকশা প্রতীকে ভোট চাইতেন এবং তাদের পরিবারকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। এতে মাদরাসার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। এ কারণেই আমরা আজ সকালে তাকে ভোট প্রচার থেকে বিরত থাকতে বলি। পরে তিনি উল্টো হুমকি দিয়ে নিজেই মাদরাসা ত্যাগ করেন।”

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। তারা আজ পর্যন্ত আমাকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আমার কার্যালয়ের সামনে অভিযোগ বাক্স থাকলেও সেখানে এমন কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি।”