১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে সহিংসতারোধে লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই ভোটাররা যেন কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পৌরশহরসহ জেলার বিভিন্নস্থানে সেনা, নৌ, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীসহ জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা টহল দিয়েছেন।
এদিকে প্রচারণা শেষে প্রার্থীরা ভোটের চূড়ান্ত হিসাব আর কৌশল সমন্বয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
আর ভোটাররা চাচ্ছেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। সংঘাত না হলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাবেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন।
অনেকে দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে যাবেন বলে আশা করছেন। আর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যে-ই হোক, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি আর পরিকল্পিত উন্নয়নের দিকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে নির্বাচনী সরঞ্জামাদি ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
লক্ষ্মীপুরে চারটি সংসদীয় আসনের অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের বডি অন ক্যামেরা সেটআপ করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ বিভাগ থেকে জানানো হয়, লক্ষ্মীপুরের ৪৯৬টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ২১৫টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ১৯৮টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৮৩টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এরমধ্যে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দুইজন পুলিশ সদস্য ও ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি পুলিশের ৩৭টি মোবাইল টিম, ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ২৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। এ ছাড়াও নির্বাচনী এলাকায় ৭৩২ জন সেনাবাহিনী, ৪০ জন বিমান বাহিনী, ২০০ বিজিবি, চর এলাকায় ৩২ জন কোস্টগার্ড, র্যাব এবং সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন।
জেলা নির্বাচন অফিস থেকে জানানো হয়, লক্ষ্মীপুরের ৪টি সংসদীয় আসনে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ জনপদে মোট ১৬ লাখ ৫ হাজার ১২১ জন ভোটার ভোটার রয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরে ১০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের ৩ সদস্যসহ প্রশাসনের অন্য বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন। পুলিশের ৩৭টি মোবাইল টিম, সাড়ে ৬ হাজার আনসার, ৮৮ জনের স্পেশাল ফোর্স, ১০ প্লাটুন বিজিবি, ৫ প্লাটুন র্যাব ও ৭৩২ জন সেনাবাহিনীর সদস্য কাজ করছেন।
তিনি আরো জানান, অতি গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত নজরদারি থাকবে পুলিশের। এসব কেন্দ্রে পুলিশের বডি অন ক্যামেরা থাকবে। যার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুম থেকে কেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।