ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ১৭২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ১৭২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ৭৩ বছর পার হলেও ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। ফলে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ওপর নির্ভর করতে হয়।

হরিপুর উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ১৮৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ কলেজ ৮টি, বিএম কলেজ ১টি ও কৃষি কলেজ ১টি। মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৫০টি, মাদ্রাসা ১৪টি, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ৪টি এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি সংযুক্ত) ১টি। এসব ৬৯টি মাধ্যমিক ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৭টিতে শহীদ মিনার রয়েছে।

শহীদ মিনার থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—হরিপুর সরকারি মোসলেম উদ্দিন কলেজ, বিএম কলেজ, কেবি কলেজ, যাদুরনী উচ্চবিদ্যালয়, চৌরঙ্গী উচ্চবিদ্যালয়, আর এ কাঠালডাঙ্গী উচ্চবিদ্যালয় ও পাঁচঘরিয়া উচ্চবিদ্যালয়। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারের অনেকগুলোই জরাজীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে।

উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১১০টি। এর মধ্যে মাত্র ১০টিতে শহীদ মিনার আছে, বাকি ১০০টিতে নেই। ২০১৬ সালে উপজেলা পরিষদের আমাই দিঘীর পাড়ে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। সেখানে উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।

এলাকার সচেতন মহল ও ভাষাপ্রেমীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।

এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম মিঞা এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুলতান সালাহ উদ্দিন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।