ঢাবিতে মঞ্চস্থ ‘ভাষার ক্ষুধা’ নাটক

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চস্থ হয়েছে ‘ভাষার ক্ষুধা’ নাটক। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য-এর পাদদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদের প্রযোজনায় নাটকটি মঞ্চায়িত হয়। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন মোবাশ্বের মাহমুদ নিবিড়।

নাটকের সূচনাতেই কালো পোশাক পরিহিত অভিনেতাদের হাতে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতীকী পদযাত্রা দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ‘কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট’ কবিতার তালে দলীয় পরিবেশনার মাধ্যমে তারা ভাষা আন্দোলনের প্রতিবাদী চেতনা ও সংগ্রামের আবহ ফুটিয়ে তোলেন। মঞ্চজুড়ে প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, আত্মত্যাগ এবং অধিকার আদায়ের দৃঢ় প্রত্যয়।

নাটকের বিভিন্ন দৃশ্যে ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রণী ভূমিকা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ, প্রতিবাদ এবং ঐক্যের চিত্র নাটকের মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে ওঠে।

নাটকের সহনির্দেশক নুসরাত জাহান সাদিয়া বলেন, ‘বাংলা ভাষার সৌন্দর্য ও গুরুত্ব উপলব্ধির ক্ষেত্রে বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষার জন্য আত্মত্যাগের ইতিহাস সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি হলে কেউ আর নিজের ভাষাকে ছোট করে দেখবে না।’

নাটকের পরিচালক মোবাশ্বের মাহমুদ নিবিড় বলেন, ‘রাষ্ট্র ও ক্ষমতা ভাষাকে ততক্ষণই গ্রহণ করে, যতক্ষণ ভাষা নীরব থাকে। কিন্তু ভাষা যখন প্রশ্ন তোলে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তখন তাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। এই উপলব্ধি থেকেই নাটকের মূল ভাবনার সূচনা।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্য সংসদের সাবেক সভাপতি নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘বাংলা ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি প্রতিবাদ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ভাষা। তবে বাস্তবতায় সেই চেতনা এখনো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষায় প্রতিবাদ জানানোর সাহস আরও দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন।’

নাটকটি ঘিরে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। উপস্থিত দর্শকরা নাটকের প্রতীকী উপস্থাপনা ও ভাষা আন্দোলনের চেতনার পুনরুজ্জীবনকে গভীরভাবে অনুভব করেন। ‘ভাষার ক্ষুধা’ নাটকটি ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ, প্রতিবাদ এবং বাংলা ভাষার মর্যাদার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করে।