ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে টিসিবির পণ্যে স্বস্তি, তবুও নাভিশ্বাসে নওগাঁর ভোক্তারা

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

রমজান মাস মানেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি। পবিত্র এ মাসে সারা দেশের মতো নওগাঁর নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষেরও প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খেতে হয়। এ পরিস্থিতিতে জেলার ১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম চলবে আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত।

সহনীয় মূল্যে টিসিবির পাঁচ ধরনের নিত্যপণ্য পেয়ে খেটে খাওয়া নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে এসব পণ্য পেতে ভোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় “আগে এলে আগে পাবেন” ভিত্তিতে পণ্য নিতে ভোররাত থেকেই লাইনে দাঁড়াচ্ছেন অনেকে।

টিসিবির পণ্য বিক্রিকে ঘিরে অনেক স্থানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ডিলারদের সময়সূচি না মানার অভিযোগ রয়েছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এতে নিম্নআয়ের মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভোক্তাদের দাবি, নির্ধারিত সময় মেনে পণ্য বিক্রি করলে ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।

রাণীনগর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে টিসিবির ট্রাকের অপেক্ষায় প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ ইট রেখে সিরিয়াল দিচ্ছেন, কেউ আবার ট্রাক আসার খবর পেয়ে দৌড়ে লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন। কেউ ভোরে, কেউ সকাল ছয়টা, আবার কেউ আটটা কিংবা নয়টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। তবুও সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়ার আশায় ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ।

উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামের ভ্যানচালক লসির উদ্দিন বলেন, ভ্যান চালানো বন্ধ রেখে সূর্য ওঠার আগেই তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছেন। রমজান এলেই বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তাই কিছুটা সাশ্রয়ের আশায় টিসিবির পণ্য নিতে এসেছেন। বরাদ্দ বাড়ানো হলে আরও বেশি মানুষ উপকৃত হতেন বলে তিনি মনে করেন।