বুড়িচংয়ে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুই

০৩ মার্চ, ২০২৬

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা এলাকায় পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ৫৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে বুড়িচং থানা পুলিশ। একই সঙ্গে মাদক সেবনের দায়ে পাঁচ যুবককে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (২ মার্চ) রাতে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান।

পুলিশ জানায়, বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়কের রাজাপুর ইউনিয়নের বারেশ্বর চৌমুহনী এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চালানো হয়।

এ সময় জাহাঙ্গীর স্টোরের সামনে এক ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করে ৪৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মো. নাঈম (২৯) বুড়িচং সদর ইউনিয়নের পূর্ণমতি গ্রামের জামাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে।

একই এলাকায় হাজী স্যানেটারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স দোকানের সামনে আরেক ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পরে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মো. দীপু (২৪) বারেশ্বর গ্রামের মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের ছেলে।

অপরদিকে, কুমিল্লা-বাগড়া সড়কের রাজাপুর ইউনিয়নের পাঁচড়া নূর মসজিদের সামনের চেকপোস্টে হরিমঙ্গল থেকে কুমিল্লাগামী মোটরসাইকেল থামিয়ে পাঁচ যুবককে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সেবন করে আসার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় পুলিশ।

পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রত্যেককে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা করে জরিমানা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— কুমিল্লা নগরীর তালপুকুরপাড় এলাকার কানুলাল দাসের ছেলে বিশ্বজিৎ দাস (৩৫), ঠাকুরপাড়া এলাকার বিজয় পালের ছেলে প্রীতম পাল (৩৫), তালপুকুরপাড় এলাকার মো. হির মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ তৌসিফ (৩৫), মনোহরপুর এলাকার দিদারুল আলমের ছেলে সাইদুল আলম অপু (২৮) এবং পেয়ারাতলী এলাকার আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ গোলাম রাব্বি (২৩)। রায় ঘোষণার পর তাদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওসি লুৎফুর রহমান বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এলাকায় মাদক নির্মূলে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।’

এ ঘটনায় আটক দুই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।