১৯ মার্চ, ২০২৬
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করছেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ১৩২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা করে কৃষি ঋণ মওকুফ করা, পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২৮ হাজার নারীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ; ইমাম, মোয়াজ্জিন, পুরোহিতদের উৎসব ভাতা ও মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। আগামী দিনে সবার সহযোগিতায় পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন তিনি। বাংলাদেশকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে আমরা প্রতিষ্ঠা করব।
বুধবার রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের রমাকান্ত খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, খালে মাছ চাষ, হাঁস চাষ করে গ্রামের মানুষেরা স্বনির্ভর হতে পারবেন। বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করাসহ খাদ্য রপ্তানি করতে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল-বিল, জলাশয় খনন, পুনঃখনন শুরু হয়েছে। এতে করে উত্তরাঞ্চলের নদী-খালগুলোও জেগে উঠবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রমাকান্ত খাল খনেন মাধ্যমে ১০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে, কয়েক হাজার কৃষক সেচ সুবিধা পাবে। এছাড়া খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে বনায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এসব খাল খননে স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে করানো হবে। এর মধ্যে খাল খনন কাজের শতকরা ৩৫ ভাগ শ্রমিকরা করবেন ও বাকি ৬৫ ভাগ করা হবে মেশিনের মাধ্যমে। এতে করে গ্রামের মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। এক্ষেত্রে যদি বাজেট বৃদ্ধি করতে হয়, তাহলে সরকার তাই করবে।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন, রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুসহ অন্যরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রমাকান্ত খালের ৫ দশমিক ৪০ কিলোমিটার পুনঃখননে প্রতিবছর ১০ হাজার মেট্রিক টন ধান বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। ১৫০ হেক্টর জমিতে ভূ-উপরিস্থ পানি দ্বারা সম্পূরক সেচ দেওয়া যাবে। প্রকল্প এলাকায় মৎস্য, জলজ সম্পদ বৃদ্ধি পাবে এবং খনন কাজে নিয়োজিত ১ হাজার ৩৪৪ জন শ্রমিকের কাজের ব্যবস্থা হবে। ২১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া খালটির পুনঃখনন কাজ শেষ হবে আগামী ৩০ জুন।