এক-এগারোর পরিকল্পনাকারীরা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবেন?

২৭ মার্চ, ২০২৬

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পর গ্রেপ্তার হলেন এক-এগারো ষড়যন্ত্রের আরেকজন বাস্তবায়নকারী মামুন খালেদ। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর একটি এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয় বলে ডিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র জানিয়েছেন।

শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছিল।

এর মধ্যে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, এক-এগারোর সময় তাঁর বিতর্কিত ভূমিকা এবং জলসিঁড়ি আবাসনসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়গুলো রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামুন খালেদ এক-এগারোর শাসনামলে ডিজিএফআইয়ের শেষ মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

২০০৮-এর নির্বাচনে একটি বিশেষ দলকে জেতাতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এক-এগারো ষড়যন্ত্রের দুটি প্রেক্ষাপট ছিল। একটি হলো পরিকল্পনা, অন্যটি বাস্তবায়ন। এক-এগারো ছিল এমন একটি নীলনকশা, যার মাধ্যমে দেশকে রাজনীতিশূন্য করার চেষ্টা করা হয়।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে গণতন্ত্রহীন এবং চিরস্থায়ীভাবে পরনির্ভরশীল করতে চেয়েছিল একটি গোষ্ঠী। যারা বিদেশি তাঁবেদার। বাংলাদেশ যেন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে সেটাই ছিল এক-এগারো ষড়যন্ত্রের প্রধান লক্ষ্য। এ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল বহু আগেই।

’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিজয়ের পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারার সূচনা হয়।

পশ্চিমা গণতন্ত্রের আদলে এ দেশে দ্বিদলীয় রাজনীতির ধারা বিকশিত হতে শুরু করে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন এবং পাঁচ বছর অন্তর ক্ষমতার পালাবদল বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে থাকে। এভাবে তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯১, ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচন ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। এ ধারা অব্যাহত থাকলে এ দেশে অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান ছিল অসম্ভব। কিন্তু দেশের সুশীল সমাজের একটি অংশ প্রচণ্ড ক্ষমতালোভী। তাঁরা সব সময় ক্ষমতা দখল করতে চান। সুশীলদের এই অংশ জানেন যে জনগণের ভোটে তাঁরা নির্বাচিত হতে পারবেন না। তাই তাঁরা সব সময় দেশে একটি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখল করতে চান। এই সুশীলরা বাইরে সততার কথা বললেও সুযোগ পেলেই এঁরা মহাদুর্নীতিবাজ হয়ে যান। বিভিন্ন সময়ে সামরিক শাসনে এই সুশীলরা ক্ষমতার চারপাশে ঘুরঘুর করেন। উপদেষ্টা বা বিভিন্ন পদ গ্রহণ করে এঁরা দুর্নীতিতে গা ভাসিয়ে দেন। কিন্তু ’৯০-এর গণ অভ্যুত্থানের পর ধীওে ধীরে ক্ষমতালোভী সুশীলদের ক্ষমতা কমতে থাকে। গণতন্ত্রের কারণে দেশের অর্থনীতি বিশেষ করে বেসরকারি খাত বিকশিত হতে শুরু। নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠতে থাকে। সৃজনশীল ও মেধাবী উদ্যোক্তারা তাঁদের মেধা ও মনন দিয়ে নানানরকম উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেন। আবাসন, পোশাকশিল্প, ওষুধশিল্পে বাংলাদেশে নীরব বিপ্লব ঘটে। বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ ক্রমে একটি আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ শুরু করে। বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় নতুন কর্মসংস্থান। গণতন্ত্রই যে উন্নয়নের মূলমন্ত্র তা আরেকবার প্রমাণিত হয়। এটা ছিল ক্ষমতালোভী সুশীলদের জন্য একটি বড় দুঃসংবাদ। বাংলাদেশে যদি গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়, অর্থনীতিতে যদি আমরা স্বাবলম্বী হই, তাহলে একদিকে বিদেশি আধিপত্য ও খবরদারি কমবে, অন্যদিকে সুশীলদের এনজিও ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। বিদেশি সাহায্য কমে গেলে সুশীলদের নিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন সংস্থাগুলো টিকবে না। ফলে গরিব মানুষ দেখিয়ে বিদেশ থেকে অর্থ এনে সুশীলদের জবাবদিহিহীন বিলাসিতা বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণেই সুশীলরা ক্ষমতা দখলের নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পরই শুরু হয় সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। আর এ পরিকল্পনা তৈরি করে সুশীল সমাজের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের প্রভাবশালী দুটি পত্রিকা। একটি বাংলা, অন্যটি ইংরেজি। একই গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এই সংবাদপত্র দুটি বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে শুরু করে মিডিয়া ট্রায়াল। সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অসত্য, ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করে জনমনে বিএনপির বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করা শুরু করে এ দুই সংবাদপত্র। কেবল দুর্নীতির কেচ্ছাকাহিনি নয়, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ আবিষ্কার করে পশ্চিমা বিশ্বে বিএনপির ইমেজ নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয় এই গোষ্ঠী। সুশীল সমাজের একাংশের মুখপত্র এ দুটি গণমাধ্যম একটি সুশীল সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। যাদের একমাত্র কাজ ছিল ক্ষমতাসীন বিএনপিকে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক দল এবং উগ্র মৌলবাদের সহযোগী হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করা। দেশ এবং বিদেশে বিএনপি একটি মডারেট, উদার রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত ছিল। সুশীল এই গোষ্ঠী বিএনপির এই রাজনৈতিক ভাবমূর্তি বিনাশের জন্য লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের গল্প ফেঁদে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার জন্য পরিকল্পিত অপপ্রচার শুরু করে এই গোষ্ঠী। এর কারণ ছিল পশ্চিমা বিশ্ব যেন বাংলাদেশে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পায়। এ দেশে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে, তাই সুশীলদের অগণতান্ত্রিক সরকার মন্দের ভালো-এ তত্ত্ব প্রচার করে সুশীল পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয় প্রভাবশালী বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে। একদিকে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত সৃষ্টি, অন্যদিকে রাজনৈতিক সংস্কারের নামে দীর্ঘমেয়াদি সুশীল শাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের যে ষড়যন্ত্র, তাকেই প্রচলিত অর্থে বলা হয় এক-এগারো বা ওয়ান-ইলেভেন। এ নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীর সমর্থন দরকার ছিল। তাই এ ষড়যন্ত্রে যুক্ত করা হয় উচ্চপদস্থ কিছু সেনা কর্মকর্তাকে। ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু এক-এগারোর মূল ষড়যন্ত্রকারীরা তখন ভুয়া ভোটারের এক মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করে তাদের মুখপত্র সংবাদপত্র দুটিতে। সুশীলদের তত্ত্বাবধানে রাজনৈতিক বিতর্ককে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতে সুশীলদের নেতৃত্বে সৃষ্টি করা হয় অরাজকতা। এভাবেই তৈরি করা হয় এক-এগারোর পটভূমি। আর এ নীলনকশার চূড়ান্ত বাস্তবায়নের জন্য ইউএনডিপির একটি জাল চিঠি তৈরি করে সুশীল সমাজ। যে চিঠিতে বলা হয়েছিল, ২২ জানুয়ারির নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বন্ধ হয়ে যাবে। এই বানোয়াট চিঠি ফলাও করে প্রকাশ করে সুশীল মুখপত্র সংবাদপত্র দুটি। এর ফলে সেনাবাহিনীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। গোটা সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এভাবেই সুশীল সমাজ গোটা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে রীতিমতো বোকা বানিয়ে ক্ষমতা দখল করে। ‘শান্তির স্বপ্নে : সময়ের স্মৃতিচারণ’ শিরোনামে সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁদের প্রথম পছন্দ ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মইনের নির্দেশে বর্তমানে গ্রেপ্তার জেনারেল মাসুদ ড ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু ইউনূস জানান তাঁর পরিকল্পনা অনেক বড়, মাত্র দুই বছরের পরিকল্পনায় তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হতে অসম্মতি জানান। তবে ড. ইউনূসের পরামর্শেই বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ড. ফখরুদ্দীন আহমদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান করা হয়। ড. ইউনূস এ সরকারকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছিলেন। এখানে স্মরণ করা প্রয়োজন যে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ উদ্যোগে সরাসরি যুক্ত ছিলেন সুশীল সমাজের মুখপত্র একটি ইংরেজি দৈনিকের সম্পাদক। যিনি এই নতুন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে কাজ করেছেন। অনেকের মতে রাজনৈতিক দল করে সুবিধা হবে না বরং অন্য ও সহজ উপায়ে ক্ষমতা দখলের জন্যই সেই রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ পরে বাতিল করা হয়। রাজনৈতিক দল গঠনের অল্প কিছুদিন পরই বাংলাদেশে এক-এগারো সরকার ক্ষমতা দখল করে। আরও লক্ষণীয় বিষয় হলো, ড. ইউনূসের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এক- এগারোর সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। যাই হোক, সে প্রসঙ্গে আমি এখন বিস্তারিত কিছু লিখতে চাই না। তবে এক-এগারো সরকার যে সুশীল সমাজের একাংশের মস্তিষ্কপ্রসূত, তা হলফ করেই বলা যায়। এর মাধ্যমে সুশীল সমাজের দীর্ঘদিনের ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষার পূর্ণতা পায়। এক-এগারো সরকার ক্ষমতা গ্রহণের আগেই এর লক্ষ্য ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। সুশীল সমাজ একাধিক বৈঠকে তাদের কর্মপন্থা চূড়ান্ত করেছিল। এ কর্মসূচির মধ্যে ছিল-

১. বিরাজনীতিকরণ। রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করা। মাইনাস ফর্মুলার মাধ্যমে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে নেতৃত্বশূন্য করা।

২. রাজনৈতিক নেতৃত্বের চরিত্রহনন। জনগণের মধ্যে এই ধারণা তৈরি করা যে রাজনীতিবিদ মানেই দুর্নীতিবাজ।

৩. দেশের অর্থনীতি বিদেশি ঋণ ও সাহায্যনির্ভর করে রাখা। যেন ঋণের শর্তে বিদেশিরা সহজেই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

৪. বেসরকারি খাত দুর্বল এবং ধ্বংস করা। বেসরকারি খাতের দেশপ্রেমিক উদ্যোক্তাদের দুর্নীতিবাজ বানিয়ে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা।

৫. ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দেশ নেতৃত্বশূন্য করা।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে সুশীল নিয়ন্ত্রণাধীন সংবাদপত্র দুটি। এক-এগারোর শাসনকাল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ওই সংবাদপত্রগুলোতে যা লেখা হতো তা-ই পরবর্তীতে বাস্তবায়ন করত সরকার। এ পত্রিকা দুটিতে প্রথমে একজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কল্পকাহিনি প্রকাশিত হতো, দুই দিন পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতো। এই সময়ে এ সংবাদপত্র দুটি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিরামহীন মিথ্যাচার করে। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে বানোয়াট খবরের আবিষ্কারক এই সুশীল সংবাদপত্র। এই সময়ে একজন সম্পাদক, যিনি এক-এগারোর অন?্যতম পরিকল্পনাকারী, তিনি প্রথম পৃষ্ঠায় স্বনামে ‘তারেক রহমানের বিচার হতেই হবে’ শিরোনামে সম্পাদকীয় প্রকাশ করেন। এর পরই অসত্য অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। একইভাবে তাঁরা বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। পরে ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে তাঁদের সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজ হিসেবে ঘোষণা করে চরিত্রহননের নোংরা খেলা চলে। এ যেন বিচারের আগেই শাস্তি!

এক-এগারোর দুটি দিক ছিল। একটি হলো পরিকল্পনা আর অন্যটি তার বাস্তবায়ন। এ দুইয়ের সমন্বয়ে দেশ ধ্বংসের আয়োজন চলে ছিল দুই বছর।

আশার কথা, দীর্ঘ ১৯ বছর পর এক-এগারোর কুশীলবদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কিন্তু যাঁদের এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরা সবাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী। মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এঁদের অনেকেই বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও ক্ষমতাবান ছিলেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচালের জন্যও তাঁরা চেষ্টা করেছিলেন। দেশে দীর্ঘমেয়াদি অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য তাঁরা শেষাবধি চেষ্টা করেছিলেন। এঁরা এখনো সক্রিয়।

একটি ষড়যন্ত্র সমূলে উৎপাটন করতে হলে তার আসল হোতাদের চিহ্নিত করতে হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে আবার বিরাজনীতিকরণের লক্ষ্যে এবং গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র হবে। নতুন রূপে, নতুন কোনো অজুহাতে এবং নতুন নামে।