জ্বালানি সংকটে ফ্লাইট কমাতে যাচ্ছে ইউরোপের এয়ারলাইন্স

০৩ এপ্রিল, ২০২৬

এপ্রিলের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত বন্ধ না হলে ইউরোপীয় বিমান সংস্থাগুলো গ্রীষ্মে নির্ধারিত ফ্লাইট ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হবে জানিয়েছে রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ও'লিয়ারি।তিনি বলেছেন, ইরানে যুদ্ধ চলতে থাকলে তাদের প্রতি দশটি ফ্লাইটের মধ্যে একটি ফ্লাইল বাতিল হতে পারে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আইটিভি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে জেট ফুয়েলের ঘাটতির কারণে বিমান সংস্থাটি তাদের গ্রীষ্মকালীন পূর্ণ সময়সূচী চালাতে পারবে না।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী ৩০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। যদি এটি ৬০ বা ৯০ দিন বন্ধ থাকে, তবে আমরা সবাই একটি অজানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হবো। এমন পরিস্থিতে মে, জুন এবং জুলাই মাসে ৫ থেকে ১০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল করার কথা ভাবছি।

ও'লিয়ারি ব্যাখ্যা করেছেন, বিমান সংস্থাগুলো কোন রুট বাতিল করবে তা বেছে নিতে পারবে না।

কোন বিমানবন্দরগুলোতে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেবে, তার উপরই ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেছেন, জেট ফুয়েল সরবরাহকারীদের কাছ থেকে মাত্র কয়েক দিনের নোটিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে এই ফ্লাইট স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

যদিও যত দ্রুত সম্ভব গ্রীষ্মকালীন ছুটির জন্য যাত্রীদের বুকিং করতে অনুরোধ করেছেন তিনি।

রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী জোর দিয়ে বলেছে, বেশিরভাগ ফ্লাইটই চালু থাকবে।

তবে বুকিংয়ে দেরী করলে বিমান ভাড়া বাড়ার কারণে বেশি দাম দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেটা অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেপলারের মতে, গত বছর হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১ কোটি ৮৮ লঅক টন জেট ফুয়েল পাঠানো হয়েছিল। যা বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে মোট রপ্তানির এক-পঞ্চমাংশের চেয়ে সামান্য বেশি। তবে যুদ্ধের কারণে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং এরপর থেকে বাজার আরও সংকুচিত হয়ে আসছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেট ফুয়েল উৎপাদক চীন রপ্তানি সীমিত করছে।

আরেক প্রধান উৎপাদক দক্ষিণ কোরিয়া, পরিশোধনের জন্য অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করতে হিমশিম খাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

এখন আরও বেশি ট্যাংকারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপে জেট ফুয়েল নিয়ে আসছে, কিন্তু তা হারানো সরবরাহের ঘাটতি পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার ধারে কাছেও নয়।

উইন্ডওয়ার্ডের একজন সামুদ্রিক বিশ্লেষক মিশেল বকম্যান বলেন, যুদ্ধ অবিলম্বে শেষ হয়ে গেলেও একটি সংকট আসন্ন।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বিশেষ করে কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জেট ফুয়েলের চালান পুনরায় চালু করতে কত সময় লাগবে তা স্পষ্ট নয়। ইউরোপের বিমানবন্দরগুলোও মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।

ও'লিয়ারি বলেছেন, জ্বালানি ঘাটতির কারণে ফ্লাইট বাতিল হলে রায়ানএয়ার যাত্রীদের তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেবে, এমনকি এতে কয়েক দিন সময় লাগলেও।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, আপনারা কোনো ক্ষতিপূরণ পাবেন না, কারণ এটি স্পষ্টতই এয়ারলাইনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু আমরা আপনাদের অন্য ব্যবস্থা করে দেব, আপনাদের ফিরিয়ে আনব, আপনাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেব – যাই হোক না কেন।

দুর্ভাগ্যবশত কারও ফ্লাইট বাতিল হলে এয়ারলাইনের পরিবর্তে ট্রাম্পকে দোষারোপ করা উচিত বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ইরানের ওপর এটি একটি অপরিণামদর্শী হামলা। মনে হচ্ছে, এখান থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পরিকল্পনাই নেই। তৃতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে প্রথম ব্রিটিশ এয়ারলাইনগুলোর ফ্লাইট বাতিল ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় এবং বুকিং কমে যাওয়ায় স্কাইবাস নির্ধারিত সময়ের দুই মাস আগেই তাদের লন্ডন থেকে কর্নওয়াল রুটটি বাতিল করেছে। ভবিষ্যতে তা আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।