০৮ এপ্রিল, ২০২৬
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দুই সাংবাদিক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। তারা হলেন মুভি বাংলা ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সিংগাইর উপজেলা প্রতিনিধি ছানোয়ার হোসেন এবং দৈনিক ইনকিলাবের (মাল্টিমিডিয়া) স্টাফ রিপোর্টার আবুল কালাম আজাদ বিপ্লব।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের কহিলাতলী এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক ছানোয়ার হোসেন।
এ ছাড়া জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন হামলার শিকার অপর সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ বিপ্লব।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের উত্তর বকচর গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক ছানোয়ার হোসেন ও আবুল কালাম আজাদ বিপ্লবের সঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার শহিদুল ইসলামের বিরোধ চলে আসছে। মঙ্গলবার দুপুরে পেশাগত কাজ শেষে ছানোয়ার তার সহকর্মী আবুল কালাম আজাদ প্রাইভেট কার যোগে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। বেলা পৌনে ২টার দিকে কহিলাতলী বঙ্গবাসীর বাড়ির সামনে পৌঁছালে শহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী জাহানারা বেগম ও ভাগ্নে মীর কাশেমসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন তাদের প্রাইভেট কারের গতিরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
একপর্যায়ে শহিদুল ইসলামসহ অন্যরা প্রাইভেট কার থেকে তাঁদের দুজনকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামান। এসময় স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে আবুল কালাম আজাদ রক্ষা পেলেও ছানোয়ার হোসেনকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এসময় তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ছানোয়ারের কাছে থাকা ১২ হাজার ৬০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায় হামলাকারীরা। এতে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ছানোয়ার হোসেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন সহকর্মীরা।
এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম, তার স্ত্রী জাহানারা বেগম ও ভাইগনা মীর কাশেম আলীকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাংবাদিক ছানোয়ার হোসেন। অপরদিকে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ বিপ্লব।
হামলার শিকার ছানোয়ার হোসেন ও আবুল কালাম আজাদ বিপ্লব বলেন, শহিদুল ইসলাম এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ। চাঁদাবাজি মামলায় সম্প্রতি জেলও খাটেন তিনি। তার অন্যায় অপকর্মের প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন সময় আমাদের দুজনকে হুমকি-ধামকি দেন।
এরই জেরে হত্যার উদ্দেশ্যে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত শহিদুল ইসলামসহ সবাইকে আইনের মুখোমুখি করার দাবি জানান তারা।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বলেন, মাটি ব্যবসায়ী ইয়াছিন মিয়া পাকা সড়ক ব্যবহার করে ড্রাম ট্রাক দিয়ে অবৈধভাবে মাটি-বালুর ব্যবসা করে। এতে করে আমাদের এলাকার পাকা সড়ক ও আশপাশের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে পাকা সড়কে মাটি ও বালুবাহী ড্রাম ট্রাক চলাচলে বাধা দেয় এলাকাবাসী। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করে ইয়াছিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। মানববন্ধনের প্রতিবাদ করায় আমার ছেলেকে মারধর করা হয়।
ইয়াছিন মিয়ার অবৈধ কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগে সাংবাদিক বিপ্লব ও ছানোয়ারকে গালমন্দ ও হালকা মারধর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এই ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।
এদিকে ছানোয়ার হোসেন ও আবুল কালাম আজাদ বিপ্লবের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছন মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাব সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহানুর ইসলাম, সিংগাইর উপজেলা প্রেস ক্লাব আহ্বায়ক মোবারক হোসেন, সদস্য সচিব সুজন মোল্লা ও সিংগাইর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান বিশ্বাসসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা। সেই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক ছানোয়ার হোসেন ও আবুল কালাম আজাদ বিপ্লবের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।