১৫ এপ্রিল, ২০২৬
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সঠিক সংরক্ষণের অভাবে বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। পচন রোধ করা গেলে আমরা পেঁয়াজে একেবারে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যাব।
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশের ১৪তম দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদে এ তথ্য জানান তিনি। জাতীয় সংসদের এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
রাজবাড়ী জেলাসহ পেঁয়াজ ও রসুন অধিক উৎপাদনশীল এলাকায় প্রকল্পের আওতায় মোট ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান কৃষিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পেঁয়াজ সংরক্ষণের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে প্রকল্প প্রণোদনার মাধ্যমে পাংশা উপজেলায় ৫০৫টি কালুখালী উপজেলায় ২৬০টি এবং বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৪৯৫টি এয়ার-ফ্লো মেশিন সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ রসুন সংরক্ষণের লক্ষ্যে কৃষি বিপণন অধিদফতরের মাধ্যমে বায়ু প্রবাহ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন ও বিতরণ কার্যক্রম উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে পর্যালোচনার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ী জেলাসহ পেঁয়াজ ও রসুন অধিক উৎপাদনশীল এলাকায় মোট ৮ হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুমোদন সাপেক্ষে রাজবাড়ী-২ এর পাংশা, বালিয়াকান্দা, কালুখালী উপজেলায় ৮০০ থেকে এক হাজার এয়ার-ফ্লো মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। বিশেষ করে রাজবাড়ী উপজেলা পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা। যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় শুধু সঠিক সংরক্ষণ করতে না পারায় এর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এরইমধ্যে আমরা এয়ার-ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে সংরক্ষণ চালু করেছি... আমি আগেই বলে দিয়েছি এটা ওই যেই উপজেলাগুলোতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা এজ আর্লি এস পসিবল এটাতে ট্রাই করে দেখা যায়... আট থেকে নয় মাস পর্যন্ত ওই নিয়মে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যায়। সেখানে অপচয় মাত্র দুই থেকে চার পারসেন্ট। শুধু অপচয়টা যদি রোধ করা যায় তাহলে পেঁয়াজে একেবারে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যাব।
তিনি বলেন, আমরা ওই সংরক্ষণের এয়ার-ফ্লো মেশিন... যেটা থেকে এক হাজার আমরা খুব দ্রুততম সময় দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। এই মেশিনগুলো আমরা প্রায় এক হাজার শুধু এই দুই-তিনটা উপজেলাতে আগামী সিজনে দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা চিন্তাভাবনা করছি। আমরা আশা করি এতে করে বাংলাদেশের কৃষক পেঁয়াজ অপচয় থেকে বেঁচে যাবে এবং বাংলাদেশ পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ।