১৭ এপ্রিল, ২০২৬
নগরীতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে আশফাক কবির সাজিদ (১৭) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে লিফটের গর্তে ফেলে হত্যার ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও রহস্যাবৃত। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ এনে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। হামলাকারীরা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য।
গত রবিবার রাতে চকবাজার থানার মৌসুমী আবাসিক এলাকার এ ঘটনায় পুলিশ শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত প্রধান আসামি আইমানসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার অন্য তিনজন হল- আইমানের ভগ্নিপতি এনায়েত, মেশকাতুল কায়েস ও ভবনের দারোয়ান এনামুল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমাÐের আবেদন জানানো হয়েছে। পুলিশ বলছে,আইমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধূর্ত আইমান পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগেই অন্য একটি মামালায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে। একারণে তাকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। সাজিদ হত্যা মামলায় আইমানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, এ পর্যন্ত তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ি ঘটনার সময় নিহত সাজিদ ও তার বন্ধু ফারদিনসহ কয়েকজন একটি চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিল। ফারদিন তাকে ফোন করে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আসে।ওই সময় আইমান সেখানে এসে কয়েকদনি আগে তার ভাগ্নের চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের চোরকে খুঁজতে থাকে। কেউ একজন তখন সাজিদকে দেখিয়ে দেয়। এ সময় আইমান ও তার সহযোগিরা সাজিদের ওপর হামলা করে। তাদের হাত থেকে বাঁচতে সে দৌড়ে পাশের নির্মাণাধীন আটতলা ভবনে ঢুকে গেট বন্ধ করে দেয়। তবে হামলাকারীরা গেটে ধাক্কা দিলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন। পরে তারা সাজিদকে মারধর করে এবং এক পর্যায়ে আট তলা থেকে লিফটের ফাঁকা স্থানে ফেলে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী নিহত সাজিদ মৌসুমী আবাসিক এলাকার একটি ভবনে মেস-এ থাকতো। তার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। পরিবারের সদস্যরা সেখানেই থাকেন। তার বাবা হাশেম শিকদার গণমাধ্যমকে জানান, সাজিদ নিরীহ প্রকৃতির ছেলে। সে কেনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত ছিল না। তিনি ছেলে হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এএসআই মেহেদী হাসান সৈকত জানান, গ্রেফতার চারজনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।