১৯ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
আইআরজিসি জানায়, গতকাল কয়েকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরের ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেনি।
তাই আজ সন্ধ্যা থেকে এই অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
তারা আরো জানায়, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে নোঙর করা কোনো জাহাজ যেন সেখান থেকে না সরে। হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়াকে শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং লঙ্ঘনকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমরা সব জাহাজ ও তাদের মালিকদের শুধু আইআরজিসি নৌবাহিনীর অফিসিয়াল কর্তৃপক্ষ ও ভিএইচএফ রেডিওর চ্যানেল ১৬-এর মাধ্যমে তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক সদর দপ্তর জানায়, ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগামী ও বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে, যা আলোচনার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে আবারও ‘কঠোর ব্যবস্থাপনা’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যতদিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানগামী সব জাহাজের জন্য পূর্ণ নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনর্বহাল না করবে, ততদিন এই প্রণালির পরিস্থিতি কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই থাকবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান প্রণালিটি আংশিকভাবে উন্মুক্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে, তেহরান এখন হরমুজ প্রণালিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি একটি কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির উপায়ও। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা সীমাবদ্ধতা আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে হরমুজ প্রণালি এখন ইরান–যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে সামরিক ও কূটনৈতিক কৌশল একসঙ্গে প্রয়োগ করা হচ্ছে।