১৯ এপ্রিল, ২০২৬
চট্টগ্রামে কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদ হত্যা মামলায় আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তাররা হলেন মাইকেল রানা ও মো. ইলিয়াস। এ নিয়ে এ ঘটনায় পুলিশ ও র্যাব মিলিয়ে মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, রবিবার (১৯ এপ্রিল) ভোরে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার বড় খাজুরা এলাকা থেকে ইলিয়াসকে এবং শনিবার রাতে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার মহামুনি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মাইকেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাজিদ হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামি মাইকেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে র্যাব-৭ ও র্যাব-৬-এর যৌথ অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. ইলিয়াসকে আটক করা হয়।
গত ১২ এপ্রিল রাতে নগরের চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গা থেকে সাজিদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পূর্ব বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নিহত আশফাক কবির সাজিদ বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা আবুল হাশেম খন্দকারের ছেলে। চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকার ডিসি রোডে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১২ এপ্রিল বিকেলে বন্ধু ফারদিন হাসান ফোন করে সাজিদকে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকার মোড়ে ডেকে নেয়।
সেখানে আইমন, অনিক, মাইকেল রানা, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ আরও কয়েকজন তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়।
পরে সাজিদ পালানোর চেষ্টা করে ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিলেও অভিযুক্তরা তাকে ধাওয়া করে ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তারা তাকে মারধর করে ভবনের অষ্টম তলার লিফটের ফাঁকা জায়গায় ফেলে দেয়।
পরে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সাজিদের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে ১৩ এপ্রিল চকবাজার থানায় সাতজনের নামে মামলা করেন।
এর আগে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল।