১৯ এপ্রিল, ২০২৬
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী থেকে তিন দিনের ব্যবধানে দুইটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বিজিবি। এতে এলাকায় আতঙ্ক ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পলিয়ানপুর সীমান্ত সংলগ্ন ইছামতি নদী থেকে সর্বশেষ মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, কচুরিপানার নিচে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় মরদেহটি পচে ফুলে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।
পরে তারা বিষয়টি পুলিশ ও বিজিবিকে জানায়।
পরে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সীমান্তের জিরো লাইন থেকে প্রায় ১০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মরদেহের পকেট থেকে একটি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে, যেখানে রতিকান্ত জয়ধর (৪৬), পিতা দেবেন্দ্র নাথ জয়ধর, গ্রাম পোলাটানা, ভাঙারহাট, কোটালিপাড়া, গোপালগঞ্জ—এই তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
তবে এটি মরদেহের প্রকৃত পরিচয় কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ৫৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম বলেন, মরদেহটি কয়েকদিন পানিতে থাকার কারণে পচে ফুলে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি তিন থেকে চার দিন আগের ঘটনা।
এর আগে গত সোমবার একই এলাকায় ইছামতি নদীর তীর থেকে আরও একটি অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেটিও এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
পরপর দুইটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে।