নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা চালুতে জোর, শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরছে

২৩ এপ্রিল, ২০২৬

দেশের শিক্ষা খাতে অস্থিরতা কাটিয়ে শৃঙ্খলা ও স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা চালুর ওপর জোর দিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় সচল করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অতীতে অস্থিরতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম আংশিকভাবে ব্যাহত হলেও স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও একাডেমিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা পুনরায় চালু করতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে সুশৃঙ্খল একাডেমিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়।

তিনি জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (ডিএসএইচই) মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এই পরিকল্পনার আওতায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ—যেমন ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’, ফ্রি ওয়াই-ফাই, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং উন্নত শিক্ষক প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষা আধুনিক ও আরও কার্যকর হয়।’

পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু, কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং নৈতিক শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে চালু করা, যাতে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে।

সামাজিক, মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম, প্রামাণ্যচিত্র এবং কুইজভিত্তিক পুরস্কার কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। এর মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক অবক্ষয় রোধ করে ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য একটি বিসিএস শিক্ষা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে, যা শিক্ষা প্রশাসনে দক্ষতা ও গতিশীলতা বাড়াবে।

এছাড়া ‘নেক্সটজেন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, রিয়েল-টাইম লার্নিং মনিটরিং, সমন্বিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা, উপস্থিতি ট্র্যাকিং এবং শিক্ষক পারফরম্যান্স মূল্যায়নসহ আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। ‘প্রকল্প প্রস্তাবটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা খাতে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। এ ধরনের প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।