২৩ এপ্রিল, ২০২৬
ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো লোকসভা। দীর্ঘ ১২ বছরের শাসনামলে প্রথমবারের মতো সংবিধান সংশোধনী বিল পাসে ব্যর্থ হয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। গত শুক্রবার প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ‘সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ ভোটাভুটিতে নাকচ হয়ে যায়।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বিলটির পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ২৩০ জন সদস্য। ওইদিন অধিবেশনে ৫২৮ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বিলটি পাসের জন্য কমপক্ষে ৩৫২টি ভোটের প্রয়োজন ছিল, তবে ৫৪ ভোটের ঘাটতি থাকায় এটি বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে গত এক যুগের মধ্যে এই প্রথম মোদি সরকারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ আইনি উদ্যোগ লোকসভায় মুখ থুবড়ে পড়ল।
সরকার মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে এই বিলটি এনেছিল নারী সংরক্ষণ, লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ করা এবং সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন)। তবে মূল সংশোধনী বিলটিই খারিজ হয়ে যাওয়ায় বাকি দুটি বিল আর উত্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
বিরোধী দলগুলো শুরু থেকেই এই সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের দাবি, জনসংখ্যাভিত্তিক এই পরিবর্তনের ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে রাজনৈতিক ভারসাম্যের ব্যাপক তারতম্য ঘটতে পারে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জানান, তাঁরা নারী সংরক্ষণের পক্ষে থাকলেও বিষয়টিকে সীমানা পুনর্নির্ধারণের শর্তের সাথে যুক্ত করার ঘোর বিরোধী।
ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সব দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে বিলটির পক্ষে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিরোধীদের অনড় অবস্থানের কারণে সরকারের এই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
বিলটি পাসে ব্যর্থ হওয়ার পর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ‘নারীদের দোহাই দিয়ে অসাংবিধানিক কৌশল’ অবলম্বন করায় এই বিলটি জনসমর্থন পায়নি। এই ঘটনা ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে মোদি সরকারের জন্য বড় এক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।