২৪ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘উপযুক্ত এবং লাভজনক’ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে চুক্তি হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে, ইরানে পারমাণবিক হামলা চালানো হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, তেহরানও আলোচনা চায় বলে জানিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে, মার্কিন অবরোধ, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এতে প্রধান বাধা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপযুক্ত এবং লাভজনক না হওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাবে না ওয়াশিংটন।
তেহরানের সঙ্গে চিরস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তিনি অপেক্ষা করবেন বলেও জানান।
এদিন ইরানে পারমাণবিক হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে সাংবাদিকের ওপর রীতিমত চটে যান ট্রাম্প। তেহরানে পারমাণবিক হামলা চালানো হবে না বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, আমাদের এটার প্রয়োজন নেই। কেন আমার এটার প্রয়োজন হবে? কেন এমন নির্বোধের মতো প্রশ্ন করা হলো? কেন আমি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে যাব, যখন সাধারণ অস্ত্র দিয়েই তাদের পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছি। না, আমি এটি ব্যবহার করব না। পারমাণবিক অস্ত্র কখনোই কারও ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়।
এরমধ্যেই, ভারত মহাসাগরে অভিযান চালিয়ে ইরানের তেল পরিবহনকারী একটি জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের দাবি, জাহাজটি তাদের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড’ এলাকার মধ্যে ছিল। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজটি ইরানের তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে দাবি তাদের।
হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে দাবি করে মাইন স্থাপনকারী কোনো নৌযান দেখলেই গুলি চালানোরও নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এছাড়াও, আলোচনা ও চুক্তির কথা বললেও, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক শক্তি আরও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। বর্তমানে ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৬টি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার ওপর ও দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালাতে ইসরাইল প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তিনি বলেন, হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছে তেল আবিব।
অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধে ইরানও আলোচনা ও সমঝোতা চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে মার্কিন অবরোধ, অঙ্গীকার লঙ্ঘন ও হুমকি-ধামকি আলোচনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার জেরে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন ইরানি নেতারা।