২৪ এপ্রিল, ২০২৬
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী সুমন ইসলামকে (২৩) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মেলান্দহ আমলী আদালতের বিচারক রোমানা আক্তার তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী আশরাফুল হোসাইন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সুমন ইসলাম মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুরের ইমামপুর এলাকার জিয়াউল সরদারের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের দিকে মাহমুদপুরে আগপয়লা ঠেংগেপাড়া এলাকার সোজা মিয়ার মেয়ে খাদিজাতুল কোবরার সঙ্গে একই ইউনিয়নের ইমামপুর এলাকার জিয়াউল সরদারের ছেলে সুমন ইসলামের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুমন একটি মোটরসাইকেল যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। স্ত্রী খাদিজা মোটরসাইকেল কেনার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অমানষিক নির্যাতন করে সুমন। পরে খাদিজার বাবা সোজা মিয়া মেয়ের সংসারের শান্তির জন্য মোটরসাইকেল ক্রয় বাবদ সুমনের পরিবারকে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা দেন। চলতি বছরের মার্চ মাসের ১৪ তারিখে সুমন আবারও দুই লাখ টাকা দাবি করলে খাদিজা বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুমন ও তার পরিবারের লোকজন খাদিজাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এতে সে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সুমন ও তার পরিবারের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করে বাড়িতে নিয়ে যায়। তিনদিন পর খাদিজার বাবা ঘটনা জেনে মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে মেয়ে জামাই সুমনসহ তার পরিবারের আরও ২ জনকে আসামি করে চলতি বছর ১৯ মার্চ মেলান্দহ থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, মাহমুদপুর ইউনিয়নের ইমামপুর এলাকার জিয়াউল সরদারের ছেলে সুমন ইসলাম (২৩), ছালাম সরদারের ছেলে জিয়াউল সরদার (৪৬) ও জিয়াউল সরদারের স্ত্রী বানেছা বেগম (৪২)।
বাদী পক্ষের আইনজীবী আশরাফুল হোসাইন বলেন, অভিযুক্ত আসামি সুমন খাদিজাকে ব্যাপক নির্যাতন করেছে। বিজ্ঞ আদালত বৃহস্পতিবার তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।