ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িত ১২ জন শনাক্ত

২৪ এপ্রিল, ২০২৬

রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ও প্রাঙ্গণে ডাকসু ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তত ৫০ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২ জনের নাম ও পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাবির তিন শিক্ষার্থীকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে থানায় যান ডাকসু নেতারা ও ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা। এ সময় তাদের ওপর হামলা চালায় একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী—এমন অভিযোগ উঠেছে দুই পক্ষ থেকেই।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, হামলার সময় থানার ভেতরে থাকা পুলিশ সদস্যরা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। তারা ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপ না করে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বদলে আহতদের কয়েকজনকে থানা পেছনের দিক দিয়ে বের করে দেওয়া হয় এবং ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।

ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে প্রথমে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। পরে পৃথকভাবে ডাকসু নেতারাও হামলার শিকার হন। এতে অন্তত ১০ জন সাংবাদিকসহ একাধিক ডাকসু নেতা আহত হন।

শনাক্ত ১২ জনের মধ্যে রয়েছেন হাজী মুহম্মদ মহসিন হলের আবু জর গিফারী ইফাত ও মনসুর রাফি, জিয়াউর রহমান হলের কারিব চৌধুরী ও জহিন ফেরদৌস জামি, শেখ মুজিবুর রহমান হলের মমিতর রহমান পিয়াল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সানিন সায়েদ, বিজয় একাত্তর হলের সোলাইমান হোসাইন রবি ও সাজ্জাদ হোসেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের ইমাম আল নাসের মিশুক ও জুনায়েদ আবরার, পাশাপাশি সাঈদ হাসান সাদ ও মনোয়ার হোসেন প্রান্ত।

ডাকসু ও সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, ছাত্রত্ব বাতিল ও স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ডাকসু নেত্রী সালমা ঢাকা মেইলকে বলছিলেন, ঘটনায় সময় আমরা কী করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমি ও ঝুমা দৌড়ে থানার ওসির রুমে ঢুকে পড়ে। পরে রুমে মুসাদ্দিক আসে। তার আধা ঘণ্টা পর আসে জুবায়ের। তারা জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে বেশি মেরেছিল। অন্যরাও আহত। ওই সময় ওসির রুমে বসা ছিল ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গণেশ। সে আমাদের দুইজনকে বলছিল-আপনারা বাইরে যাইয়েন না। আপনাদেরও মারবে! তখন বলেছিল, আপনারা কেমন নেতা যে কর্মীরা হামলা করবে কিনা তা ভরসা পান না। এরপর পুরো সময়ে আমরা পুলিশের সহযোগিতা পাওয়ার জন্য বারবার ওসিসহ অন্যারা কোথায় জানতে চেয়েছি কিন্তু বলা হয়েছে তারা পাশেই আছে আসতেছে। এরপর এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর তারা থানায় এসে হাজির হ। 

তিনি অভিযোগ করেন, থানায় ডাকসুর নেতাদের ওপর যখন হামলা করা হয় তখন পুরো থানায় এত পুলিশ কেউ এগিয়ে আসেনি। এমনকি তারা হামলায় বাধাও দেয়নি। বিষয়টি আজব লেগেছে। থানায় যদি এমন অবস্থা হয় তাহলে আমরা কোথায় নিরাপদ?

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের এজিএস আবদুল মজিদ ঢাকা মেইলকে বলেন, এই হামলার সময় পুলিশ ছিল একেবারে নিরব। জুবায়ের ভাই জিডি করে যিনি তার রুমে গিয়ে সাহায্য চাইলেও পাননি। তাকে তিনি এক প্রকার জোর করে বের করে দিয়েছেন।   

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম জানান, এমন অভিযোগ কেউ করেনি। আর তারা হামলার সময় থানার বাইরে ছিলেন। 

গতকালের ঘটনার পর শুক্রবার সকাল থেকে থানার ভেতরে বাড়তি পুলিশ মোতায়ের করা হয়েছে।