২৬ এপ্রিল, ২০২৬
চট্টগ্রামের পটিয়ায় আলোচিত ব্যবসায়ী আবুল কাশেম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২নং পলাতক আসামি মো. আবু তাহেরকে মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। র্যাব-৭, চট্টগ্রাম ও র্যাব-১২, সিরাজগঞ্জের একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই আসামি আবু তাহের আত্মগোপনে চলে যায় এবং স্থান পরিবর্তন করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে র্যাব সদস্যরা।
পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ জেলার একটি নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৭ এর এক কর্মকর্তা জানান, এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। আমরা শুরু থেকেই ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তৎপরতায় পলাতক আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
র্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, যৌথ অভিযানের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তে লুকিয়ে থাকলেও অপরাধীরা রক্ষা পাবে না এই বার্তাই আমরা দিতে চাই। আবু তাহেরকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আরো জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনা এবং অন্যান্য জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পটিয়া থানার ওসি মো. জিয়াউল হক জানান, ব্যবসায়ী আবুল কাশেম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আবু তাহেরকে সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
তাকে নিয়ে রওনা হয়েছে পটিয়া থানার উদ্দেশ্যে। রবিবার সকালে পটিয়া থানায় পৌঁছাবে।
উল্লেখ্য, ব্যবসায়ী আবুল কাশেম হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই পটিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
অপরদিকে, দ্রুত সময়ের মধ্যে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও সমন্বিত অভিযানের সক্ষমতা আবারও প্রমাণিত হলো।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই গ্রেপ্তার মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করবে এবং অপরাধ দমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, গুরুতর আহত আবুল কালাম এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এ ঘটনায় গত ১৯ এপ্রিল নিহত আবুল কাশেমের ছোট ভাই আবুল মনছুর বাদী হয়ে ইকবাল হোসেনকে প্রধান আসামি করে আরো দুজনকে এজহারভুক্ত এবং অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।