আদমদীঘিতে গৃহবধূকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

২৬ এপ্রিল, ২০২৬

বগুড়ার আদমদীঘিতে এক গৃহবধূকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ভুক্তভোগী পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করলে নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর আগে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের লোকো কলোনি এলাকায় ধর্ষণের এই ঘটনাটি ঘটে।

 

গ্রেপ্তাররা হলো- উপজেলার সান্তাহার পোস্ট অফিসপাড়ার নূর ইসলাম বাবুর ছেলে সাহেদুল ইসলাম সাহেদ (২১), শেখ আবদুল বারেকের মেয়ে রুনা বেগম (৪৫), সান্তাহার পূর্ব লোকো কলোনির তহিদুল ইসলামের ছেলে মিঠু হোসেন (২৭) ও আইয়ুব আলীর ছেলে হৃদয় হোসেন (২০)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামী উপজেলার সান্তাহার পূর্ব লোকো কলোনির জনৈক কবিরের বাসা নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। গত ২২ এপ্রিল তাদের পাশের বাসার আইয়ুব আলীর মেয়ে রহস্যজনক নিখোঁজ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন দিবাগত রাত ১১টার দিকে আইয়ুব ওই গৃহবধূ ও তার স্বামীকে সান্তাহার রেল গেটে জনৈক ছিদ্দিকের দোকানে ডেকে নেয় এবং তার মেয়েকে বের করে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মামলার আসামি মিঠু হোসেন ও হৃদয় হোসেন ওই গৃহবধূ ও তার স্বামীকে মারধর করতে থাকলে স্বামী সেখান থেকে ভয়ে পালিয়ে যায়।

এসময় মামলার আসামি রুনা বেগম ভিকটিমকে মারধর করে তার বাসায় নিয়ে এসে একটি ঘরে আটক রেখে পাহাড়া দেয়। রাত ২টার দিকে আটক রাখা ঘরে আসামি সাহেদুল ইসলাম সাহেদ ও আজান আলী নামের দুজন ওই ঘরে প্রবেশ করে জোরপুর্বক ধর্ষণের ঘটনা ঘটায় এবং বিষয়টি কাউকে না বলার হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে গৃহবধূর স্বামী ও স্বজনরা তার স্ত্রীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ওই গৃহবধূ সকালে থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এরপর অভিযান চালিয়ে নারীসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।