২৭ এপ্রিল, ২০২৬
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে চলমান এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন একটি হলে সিলিং ফ্যান খুলে পড়েছে মো. নিয়ামুল হাসান নামের এক পরীক্ষার্থীর মাথায়। এ আঘাত নিয়েই সম্পূর্ণ পরীক্ষা দিয়েছে সে। এসময় হলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৮ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
নিয়ামুল স্থানীয় দারুল একাডেমি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার দেড় ঘণ্টার মাথায় নিয়ামুলের ওপর ঘুরতে থাকা ফ্যানটি হঠাৎ খুলে পড়ে। এতে ফ্যানের পাখার আঘাতে মাথার একপাশ কেটে যায় তার। এ ঘটনায় হলের অন্য পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এতে কিছু সময়ের জন্য পরীক্ষা কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটে। তবে কেন্দ্রের শিক্ষকসহ অন্য কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। আহত নিয়ামুলকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পাশেই অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসক এসে তাকে চিকিৎসা দেন এবং মাথায় ব্যান্ডেজ করে দেন তিনি।
পরে সে আবার পরীক্ষায় অংশ নেয়। আহত হওয়া ও চিকিৎসা নিতে সময় লাগায় পরীক্ষায় ৩০ মিনিট সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয় তাকে।
কেন্দ্রের হল সুপার ও বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আবদুল আউয়াল চৌধুরী জানান, ঘটনার পরপরই আমরা ছাত্রের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। সে যেন ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারে, সেজন্য ভিন্ন কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা করি ও অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করি। ওই সময়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক দল কেন্দ্রে ছিল।
তাদের পরামর্শে পরীক্ষার্থীর জন্য সময় বাড়িয়ে নেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, সে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা দিয়ে তার বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরে যায়। বিকেলে আমি এবং বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নিই।
স্থানীয়দের দাবি, কেন্দ্রের কিছু কক্ষ পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সংস্কারের দাবি জানান তারা।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসের রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং বিকেলে তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেন। এটি একটি নিছক দুর্ঘটনা।
ওই কেন্দ্রসহ সব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।