২৮ এপ্রিল, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে ফিলিস্তিন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটরিয়ামে ‘ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি : ভয়েসেস ফ্রম প্যালেস্টাইন অ্যান ইন্টারন্যাশনাল সেমিনার অন লিবারেশন অ্যান্ড জাস্টিস’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্যালেস্টাইন স্কলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নওয়াফ হাইল তাকরুরী ও ডাকসুর সহ-সভাপতি মো. আবু সাদিক কায়েম উপস্থিত ছিলেন।
নওয়াফ হাইল তাকরুরী বলেন, আমরা সবাই বায়তুল মাকদিসের বাসিন্দা। আপনাদের পূর্বপুরুষ সাইফুল আজম ইসরায়েলের বিমান ধ্বংস করেছিলেন। এতে পবিত্র ভূমির সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক কতটা দৃঢ়, তা বোঝা যায়।
আল-আকসার ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আল কুদস সব মুসলমানের শহর। মসজিদুল আকসা মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্র স্থান এবং প্রথম কিবলা। তাই কুদসের বিষয়টি সব সময় স্মরণে রাখতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসরায়েলের মানবতাবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেন একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করে। সেখানে বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়কেও আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে তারা সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
সেমিনারে ডাকসুর সহসভাপতি মো. আবু সাদিক কায়েম বলেন, ফিলিস্তিন নিয়ে কার্যক্রম অনেক কমে গেছে। শুধু সভা-সেমিনার নয়, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের মতো প্রতিষ্ঠান তৈরি করেও ফিলিস্তিনের মুক্তিতে ভূমিকা রাখতে হবে।
ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য একটি রূপরেখা তৈরি করা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।
সেমিনারে ধর্মতাত্ত্বিক ও গবেষক ড. ইহসান সেনোকাক আফেন্দি বলেন, তুরস্কের সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের সম্পর্ক বহু পুরোনো। খিলাফতের পতনের সময় এ অঞ্চলের মানুষ তুরস্ককে সহযোগিতা করেছিল।
মুসলমানদের বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকলে মুসলমানরা একদিন বিজয়ীর হয়ে আল কুদসে প্রবেশ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এছাড়াও এ সেমিনারে তুরস্কের রিবাত হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইয়্যিদ মেহমেত ডুমান, আল কুদস ওয়াকফ ফর হেল্প অ্যান্ড এডুকেশনের চেয়ারম্যান ড. জাকারিয়া খালিল, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ শাহীন ও আনাস ইবনে মুনির উপস্থিত ছিলেন।