২৮ এপ্রিল, ২০২৬
ধীর গতির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত এক প্রাণী স্লথ। দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার ক্রান্তীয় বনাঞ্চলের এই বাসিন্দারা স্বাভাবিকভাবে উষ্ণ পরিবেশেই টিকে থাকে।কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি আমদানি কেন্দ্রে ছিল উলটো পরিস্থিতি।
অব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রটির তাপমাত্রা নেমে যায় বিপজ্জনক মাত্রায়।
আর সেই ঠান্ডাতেই একের পর এক প্রাণ হারায় ২১টি স্লথ। শুধু তাই নয়, ওই প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৩০টি স্লথ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রতি এক তদন্তে উঠে এসেছে এই অব্যবস্থাপনা ও অপ্রস্তুতির চিত্র। রাজ্যের বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে একই প্রতিষ্ঠানে ঠান্ডা ও অসুস্থতায় প্রায় ৩০টি স্লথ মারা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘স্যাঙ্কচুয়ারি ওয়ার্ল্ড ইমপোর্টস’ আমদানি কেন্দ্রে গায়ানা থেকে আনা ২১টি স্লথ মারা যায়। সে সময় গুদামের ভেতরের তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৫৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে গিয়েছিল, যা স্লথদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্লথরা অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো শরীরের তাপমাত্রা সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের প্রাণী ও উদ্ভিদ স্বাস্থ্য পরিদর্শন পরিষেবা জানায়, ৬৮ থেকে ৮৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রাই তাদের জন্য উপযুক্ত।
প্রতিষ্ঠানটির এক পরিচালক পিটার ব্যান্ড্রে তদন্তকারীদের বলেন, প্রাণীগুলো ‘ঠান্ডায় জমে অচেতন হয়ে’ মারা গেছে। ভবনটিতে তখন পানি ও বিদ্যুৎ ছিল না এবং প্রাণীগুলো রাখার মতো প্রস্তুতিও সম্পূর্ণ হয়নি। চালান বাতিল করার সময় না থাকায় সেগুলো গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাপ উৎপাদক যন্ত্র কেনা হলেও ফিউজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো কাজ করেনি। ফলে অন্তত এক রাত স্লথগুলো তাপহীন অবস্থায় ছিল।
এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পেরু থেকে আনা হয় আরও ১০টি স্লথ। পৌঁছানোর সময়ই দুটি মৃত অবস্থায় ছিল। বাকি প্রাণীগুলোকে দুর্বল ও শীর্ণ দেখা যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে দুর্বল স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে সেগুলোরও প্রাণহানী হয়।
ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের মার্চে পরিদর্শনে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে স্লথ ওয়ার্ল্ড ইনকরপোরেটেড। নতুন প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন অ্যাগ্রেস্টা জানান, আগের পরিচালক ব্যান্ড্রে আর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নেই।
তবে সাম্প্রতিক পরিদর্শনে কিছু উন্নতির চিত্রও দেখা গেছে। যেখানে স্লথগুলো মারা গিয়েছিল, সেই স্থানে এখন স্বতন্ত্র তাপ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। তাপমাত্রা ৮২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রাখা হচ্ছে। পরিদর্শকরা জানিয়েছেন, এ অবস্থায় স্লথগুলোর মধ্যে কোনো অস্বস্তি বা নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টির তথ্য পাওয়া যায়নি।