মামলাজট কমাতে লিগ্যাল এইড আরও কার্যকর করতে হবে: আইনমন্ত্রী

২৮ এপ্রিল, ২০২৬

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জন্য বিনা খরচে আইনি সেবা নিশ্চিতে প্রত্যেক আইনজীবীকে কমপক্ষে ১০ শতাংশ মামলা বিনামূল্যে করার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করে আইন সংশোধন করতে চাই। অধস্তন আদালতে ৪০ লাখের বেশি মামলার জট কমাতে লিগ্যাল এইড ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে। 

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজ মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন। সুপ্রিমকোর্ট মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। অন্যান্যের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদফতরের মহাপরিচালক মঞ্জুরুল হোসেন এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের অধস্তন আদালতে ৪০ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন। মামলার সঙ্গে আইনজীবীর সংখ্যাও বাড়ছে। বর্তমানে দেশে ৮০ হাজার আইনজীবী রয়েছেন। অথচ আমাদের আইনজীবীদের কোন ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা নেই। অন্য ডিপার্টমেন্টে যারা যাচ্ছেন তাদের ট্রেনিং হচ্ছে। কিন্তু আইনজীবীদের শুধু সার্টিফিকেট দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পর তাদের লাগাম ধরার কোন জায়গা নেই। 

তিনি বলেন, আমরা আইনজীবীদের ট্রেনিংয়ের জন্য কাজ করছি। এরই মধ্যে আমরা বৃটিশ ল’ ফার্মের সঙ্গে চুক্তি করেছি। আমরা চাচ্ছি যখন ট্রেনিং দেবো, তখন কিছু শর্ত দিয়ে দেবো। একটি হচ্ছে নৈতিকতার জায়তায় মান বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে ১০ শতাংশ মামলা প্রো-বোনো (বিনা খরচে) করতে হবে। প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করতে হলেও আমরা সেটা করতে চাই। মামলাজট নিয়ন্ত্রণে লিগ্যাল এইডকে আরও কার্যকরি করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখন লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে, মেডিয়েশনের মাধ্যমে আদালতে মামলা দেওয়া বন্ধ করতে পারবো, তখন মামলাজট কমে আসবে। 

বিচার বিভাগের বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর এই বিভাগ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। অথচ বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ মাত্র ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে বিটিভির বরাদ্দ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। 

তিনি বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে কথা বলেছি, বাজেট বাড়ানোর দাবি তুলেছি। আইনজীবীদেরও এ বিষয়ে আওয়াজ তুলতে হবে।