বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন ঘোষণা

২৮ এপ্রিল, ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবিতে ‘কমপ্লিট একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচির পর এবার সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষকেরা। এতে সংহতি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা–কর্মচারীরাও।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় শিক্ষকসমাজের ব্যানারে ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর আগে একই দাবিতে গত বুধবার থেকে ‘কমপ্লিট একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সব বিভাগের পাঠদান, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে গত রোববার থেকে শুধু পরীক্ষা গ্রহণে সম্মতি দেন শিক্ষকেরা। তবু পাঠদানসহ অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। 

৬০ শিক্ষক পদোন্নতির শর্ত পূরণ করার পরও কয়েক বছর ধরে পদোন্নতি পাননি। এ কারণে তাঁরা পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলন করছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ধীমান কুমার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোহসীন উদ্দীন, সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইসরাত জাহান, আইন বিভাগের ডিন সরদার কায়সার আহমেদ, মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা।

ধীমান কুমার বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পদোন্নতি (আপগ্রেডেশন) নীতিমালা অনুযায়ী অনেক শিক্ষক ২০২৪ সালের মধ্যেই প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেন। কিন্তু তৎকালীন উপাচার্য শুচিতা শরমিন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের পদোন্নতির উদ্যোগ নেননি। ২০২৫ সালে মোহাম্মদ তৌফিক আলম উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর আরও অনেক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেন। পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনকারীরা অনুরোধ করলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তা বিলম্বিত করেন।’

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের পর আবেদনের ৪৫ দিনের মধ্যে পদোন্নতি বোর্ডের সভা আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু উপাচার্য সেই বাধ্যবাধকতা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন বিলম্ব করেন এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রথম সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে আপগ্রেডেশনের বোর্ড সভা শুরু করেন।’

ধীমান কুমার বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্চা অনুযায়ী আপগ্রেডেশন বোর্ডের সভার পরপরই সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং আইন অনুযায়ী বোর্ডের সুপারিশ অনুমোদনের পরপরই আপগ্রেডেড পদ কার্যকর হয়। কিন্তু উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম বোর্ডের সুপারিশ অনুমোদনের জন্য সিন্ডিকেট সভা আহ্বান না করে টালবাহানা করতে থাকেন। একইসঙ্গে ২০২৪ সাল থেকে যোগ্যতা অর্জনকারী সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদোন্নতি প্রত্যাশীদের জন্য আপগ্রেডেশন বোর্ডের সভা আয়োজন থেকেও তিনি বিরত থাকেন। এভাবে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতির বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখেন।’

ডিন বলেন, ‘ইউজিসি গত ৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে চিঠি পাঠায়, তা থেকে বোঝা যায় উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম ইউজিসির সঙ্গে এমন কিছু সমঝোতা করেছেন, যার ফলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এখন থেকে আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী নয়; বরং ইউজিসির নির্দেশনা ও উপাচার্যের মতামত অনুযায়ী পরিচালিত হবে।’