হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ইরানকে সতর্ক করল উপসাগরীয় দেশগুলো

২৯ এপ্রিল, ২০২৬

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। প্রণালিটি বন্ধ করা, নৌচলাচলে বাধা সৃষ্টি এবং নিরাপদ চলাচলের জন্য ফি আরোপের যেকোনো উদ্যোগকে ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড’ বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) এক বিশেষ বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলোর এ অবস্থান জানানো হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এতে কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের মতো হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও অবাধ নৌচলাচল পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সমন্বয় বাড়ানো, যৌথ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেন উপসাগরীয় নেতারা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে ইরান। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান এইমাত্র আমাদের জানিয়েছে যে, দেশটি বর্তমানে ‘ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায়’ রয়েছে। দেশটিতে নেতৃত্বের সংকট সমাধানের চেষ্টা চলাকালীন তারা চায়, আমরা যেন যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি খুলে দিই।

অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, দেশটি এখনও যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। শত্রুপক্ষকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি জানান, শত্রু যদি নতুন কোনো পদক্ষেপ নেয়ার দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সরঞ্জাম, পদ্ধতি ও রণক্ষেত্রে কঠিন জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।

মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের শত্রুদের প্রতি কোনো আস্থা না থাকায়, যুদ্ধের সময়ের মতোই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা নিশ্চিত করতে জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।