২৯ এপ্রিল, ২০২৬
সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির চাপে দক্ষিণ সুদানে মানবিক সংকট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। দেশটির প্রায় ৮০ লাখ মানুষ এখন তীব্র খাদ্যসংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক মাসে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির ৭৮ লাখ মানুষ উচ্চমাত্রার খাদ্য অনিরাপত্তায় ভুগবে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৬ শতাংশের সমান।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের ভাষায়, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ‘অপরিবর্তনীয় মানবিক বিপর্যয়ে’ রূপ নিতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা আরও এক লাখ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ লাখে। এর মধ্যে প্রায় ৭ লাখ শিশু মৃত্যুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
চলমান সংঘর্ষের কারণে দক্ষিণ সুদানের অনেক পুষ্টিসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকি আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহ সংকট ও অর্থায়নের অভাবে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সেবায় প্রবেশাধিকার কমে গেছে।
বিশ্বের নবীনতম দেশটির এমন মানবিক সংকটের পেছনে রয়েছে জাতিগত সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং প্রতিবেশী সুদানে চলমান যুদ্ধের প্রভাব। ২০১১ সালে গণভোটের মাধ্যমে সুদান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা পায় দেশটি।
এর পাশাপাশি দেশটির অর্থনৈতিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দক্ষিণ সুদান এখনো বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ।
দেশটি আবারো পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা বেড়েছে। ২০১৮ সালের শান্তিচুক্তির মাধ্যমে যে সংঘাতের অবসান ঘটেছিল, তাতে প্রায় ৪ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
গত কয়েক মাসে রাষ্ট্রীয় বাহিনী সাউথ সুদান পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস এবং বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। এই উত্তেজনার মূল কারণ প্রেসিডেন্ট সালভা কির মায়ারডিত ও বরখাস্ত হওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাচারের দীর্ঘদিনের বিরোধ। বর্তমানে জুবায় মাচারের বিরুদ্ধে হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার চলছে, যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা।