২৯ এপ্রিল, ২০২৬
বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভিত্তি প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে পিকেএসএফের রুরাল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট (আরএমটিপি)। প্রকল্পে ৭ লাখ ৫০ হাজার ৪৪৯ জন সদস্যকে সম্পৃক্ত হয়ে জীবনমান উন্নয়নে বাড়তি সুবিধা পেয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবন-১ এ আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) ও ডানিডার সহ-অর্থায়নে বাস্তবায়িত ছয় বছর মেয়াদি আরএমটিপির সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তাদের মতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কৃষি খাত ভিত্তিক ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র উদ্যোগের অবদান সুসংহত করেছে।
পিকেএসএফের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও আরএমটিপি প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. হাবিবুর রহমান প্রকল্প বিষয়ক উপস্থাপনা করেন। উপস্থাপনায় বলা হয়, আরএমটিপি প্রকল্পটি ৯০টি কৃষিভিত্তিক ভ্যালু চেইন উপ-প্রকল্পের মাধ্যমে ৭ লাখ ৫০ হাজার ৪৪৯ জন সদস্যকে সম্পৃক্ত করেছে। এ প্রকল্পে অংশগ্রহণকারীদের কৃষিপণ্য উৎপাদন বেড়েছে ৬৬ শতাংশ, আয় বেড়েছে ৪৯ শতাংশ এবং মুনাফা বেড়েছে ৪১ শতাংশ।
পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বিশেষ অতিথি ছিলেন ইফাদ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ভ্যালেন্টাইন আচাঞ্চো এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাজমা মোবারেক বলেন, আরএমটিপি দেখিয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা, উদ্ভাবন ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে গ্রামীণ উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ প্রকল্পের সফলতার ধারাবাহিকতায় ইফাদের অর্থায়নে পিকেএসএফ ‘গ্রিন’ নামক আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন খুব শিগগিরই শুরু করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথি ভ্যালেন্টাইন আচাঞ্চো বলেন, “আরএমটিপি শুধু একটি সফল প্রকল্পই নয়, এটি বৃহৎ পরিসরে একটি কার্যকর ধারণার বাস্তব প্রমাণ। এটি প্রমাণ করেছে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটলে তা পরিবর্তনের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে এবং এমন রূপান্তর সাধন করে, যা প্রকল্পের সমাপ্তির সঙ্গে শেষ হয় না, বরং তা অব্যাহত থাকে, বিস্তৃত হয় এবং আরও কার্যকর রূপ লাভ করে।”
পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, “আরএমটিপি শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে টেকসই রূপান্তরের একটি সফল মডেল। গ্রাম থেকে শহরে বিভিন্ন পরিসরে এ প্রকল্পের সফল উদ্যোগগুলো বজায় থাকবে। পিকেএসএফ এ প্রকল্পের সফল উদ্যোগগুলোকে ভবিষ্যতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করবে।”
স্বাগত বক্তব্যে ফজলুল কাদের বলেন, আরএমটিপি প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক সেবা, আধুনিক প্রযুক্তি, বাজার সংযোগ, ব্র্যান্ডিং ও সনদায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কাজ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পিকেএসএফ ভবিষ্যতেও শোভন কর্মপরিবেশের উন্নয়ন, ঝুঁকি নিরসন এবং দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।