৩০ এপ্রিল, ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন খালে নির্মিত অস্থায়ী বাঁধ অপসারণের পর জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে গিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচল শুরু হয়েছে। এতে গত কয়েক দিনের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
মঙ্গলবার চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অস্থায়ী বাঁধ অপসারণের জন্য সিডিএকে অনুরোধ জানান। এরপর দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ অপসারণ করা হলে জমে থাকা পানি নেমে গিয়ে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড খাল খনন, সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করছে। কাজের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থানে সাময়িক বাঁধ নির্মাণ করা হলেও ভারী বর্ষণে এসব বাঁধ পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এর মধ্যে হিজরা খাল, জামালখান খাল এবং মুরাদপুর বক্স কালভার্ট এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী বাঁধের কারণে গত মঙ্গলবারের বৃষ্টিতে কাতালগঞ্জ, চকবাজার, জামালখান, মুরাদপুর ও বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওইদিনই অস্থায়ী বাঁধ অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে গিয়ে অধিকাংশ এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।
বুধবার সকালে মেয়র নগরীর জলাবদ্ধতা-প্রবণ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তবে প্রবর্তক মোড় ছাড়া অন্যান্য এলাকায় পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক হয়ে যায়।
পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চলমান উন্নয়ন কাজের কারণে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হলেও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে তা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। আমরা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছি, যাতে নগরবাসীকে দ্রুত স্বস্তি দেওয়া যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে আসবে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামবাসীর বৃহত্তর স্বার্থে গত দুই দিন ধরে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে চট্টগ্রামবাসীর পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি আজ সংসদে চট্টগ্রামবাসীর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমরা আবারও বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করছি। কোথাও বড় ধরনের পানির সমস্যা নেই। আগ্রাবাদ, হালিশহর, রামপুরা, জিইসি এলাকা ঘুরে দেখেছি। প্রবর্তক মোড়ের অংশে কিছু পানি জমে আছে, কারণ এখানে সব শিট ফাইলগুলো রাখা হয়েছে, ফলে যথেষ্ট অবস্ট্রাকশন তৈরি হয়েছে—এগুলো এখন সরিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘হিজড়া খাল ও জামালখান খালে প্রায় ৩০টি অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। এগুলো ধীরে ধীরে অপসারণ করা হচ্ছে। শিট ফাইলগুলোও তুলে নেওয়া হলে পানি দ্রুত নেমে যাবে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিকল্প সড়ক চালু রাখা হয়েছে এবং মেডিকেল কলেজ এলাকার একটি সড়ক খুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে যানজট কমে। পাশাপাশি নগরবাসীকে সাময়িকভাবে এই এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানাই।’
সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের পরিচালক এবং ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশনের লেফটেন্যান্ট মো. মহসিনুল হক চৌধুরী গতকাল গণমাধ্যমকে জানান, খালের দুই পাশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের কাজের জন্য অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে পানি শুকিয়ে (ডিওয়াটারিং) কাজ করতে হয়। তবে গত কয়েক দিনের অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে প্রবর্তক মোড়সহ কয়েকটি স্থানে পানি জমে যায়।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় হিজরা খালের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং খালের সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। প্রবর্তক মোড়ে গতরাতে জমে থাকা বুকসমান পানি খাল পরিষ্কারের পর রাত দেড়টার মধ্যেই নেমে যায়।
তিনি আরও জানান, পুরো শহরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ১৬টি কুইক রিঅ্যাকশন টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম যেকোনো জলাবদ্ধ এলাকায় দ্রুত পৌঁছে নালা ও খাল পরিষ্কারের কাজ করবে। পাশাপাশি ২৯টি এক্সকাভেটর ও পর্যাপ্ত জনবল দিয়ে বিভিন্ন খালের মাটি অপসারণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, গতকাল সকাল ৮টার মধ্যেই খালের সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করে পানি চলাচলের পথ সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, চট্টগ্রামে গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় কিছু নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রামসহ তিনটি সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।