যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংবেদনশীল স্বাস্থ্য চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল ঘানা

০২ মে, ২০২৬

ঘানা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। চুক্তির এমন কিছু শর্ত ছিল, যার ফলে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই মার্কিন সংস্থাগুলোকে দেশটির সংবেদনশীল স্বাস্থ্য তথ্যে প্রবেশাধিকার দিত। শুক্রবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে এ কথা জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। 

একই ধরনের উদ্বেগের কারণে চুক্তি থেকে সরে আসা সর্বশেষ আফ্রিকান দেশ হলো ঘানা।

শুক্রবার এক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-কে এ তথ্য জানান। একই ধরনের উদ্বেগের কারণে এর আগেও আফ্রিকার আরো কিছু দেশ এমন চুক্তি থেকে সরে এসেছে।

ঘানার ডেটা প্রোটেকশন কমিশনের নির্বাহী পরিচালক আর্নল্ড কাভারপুও বলেছেন,  ‘যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ তথ্য চাইছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।।

’ ঘানার ওই কর্মকর্তার মন্তব্য সম্পর্কে এপির প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য তহবিলের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় দুই ডজন আফ্রিকান দেশের সঙ্গে এ ধরনের স্বাস্থ্য চুক্তি করেছে। গত বছরের শেষের দিকে শুরু হওয়া এই নতুন নীতিটি, বর্তমানে বিলুপ্ত ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট-এর অধীনে থাকা পূর্ববর্তী বিভিন্ন স্বাস্থ্য চুক্তির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

এই ধরনের চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র অনেক দেশকে শত শত মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিতে চায়, যাতে তারা তাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পারে এবং রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করতে পারে।

বিশেষ করে যেসব দেশ মার্কিন সাহায্য কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা এ থেকে উপকৃত হওয়ার কথা। তবে এসব চুক্তি নিয়ে বড় উদ্বেগ রয়েছে, বিশেষ করে তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে।

ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ে জানায়, তারা প্রস্তাবিত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ, এতে স্বাস্থ্য তথ্য, ন্যায্যতা এবং দেশের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ (সার্বভৌমত্ব) নিয়ে সমস্যা ছিল। জাম্বিয়াও চুক্তির কিছু অংশের বিরোধিতা করেছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

আফ্রিকার আন্দোলনকর্মীরা বলছেন, এই চুক্তিগুলোতে তথ্য ব্যবহারের যথেষ্ট সুরক্ষা থাকে না। কখনও কখনও এতে সীমাবদ্ধতাও থাকে। যেমন, নাইজেরিয়ার ক্ষেত্রে অভিযোগ আছে যে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত খ্রিস্টান ধর্মভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছে।

আফ্রিকা সিডিসির প্রধান জিন কাসেয়া বলেন, এই চুক্তিগুলো নিয়ে তথ্য আদান-প্রদান ও রোগজীবাণু শেয়ার করা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। এদিকে ঘানা জানিয়েছে, তাদের প্রস্তাবিত চুক্তিতে তথ্য ব্যবহারের জন্য আগে থেকে অনুমতি নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি, যা নিয়ে আরো উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আর্নল্ড কাভারপুও বলেন, প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের এই প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ঘানা পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১০৯ মিলিয়ন ডলার পেত। পাশাপাশি ঘানা সরকারও কিছু অর্থ বিনিয়োগ করত। তিনি জানান, আলোচনায় এমন একটি শর্ত ছিল যেখানে প্রয়োজন মনে করলে সংবেদনশীল স্বাস্থ্য তথ্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিদের শনাক্ত করা যেত।

কাভারপুওর মতে, ‘এটি আসলে দেশের স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাকে একটি বিদেশি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার মতো ছিল।’ এই চুক্তির আওতায় শুধু স্বাস্থ্য তথ্যই নয়, বরং মেটাডেটা, ড্যাশবোর্ড, রিপোর্টিং টুল, ডেটা মডেল এবং ডেটা ডিকশনারির মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যেও প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা ছিল।

তিনি আরো বলেন, এই প্রস্তাব অনুযায়ী প্রায় ১০টি মার্কিন সংস্থা এসব তথ্য ব্যবহার করতে পারত। আর তারা কীভাবে তথ্য ব্যবহার করবে, সে জন্য ঘানার কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেওয়ার দরকার হতো না।

তার ভাষায়, ‘ডেটা কীভাবে ব্যবহার হবে, সে বিষয়ে ঘানার কোনো বাস্তব নিয়ন্ত্রণ থাকত না। তারা কাজ করার পর শুধু জানাত, আগে থেকে অনুমতি নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না।’ শেষ পর্যন্ত, ঘানা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, তারা আরো ভালো ও নিরাপদ শর্তে নতুন চুক্তি চায়।