হুমকির পর বড় ভাই খুন, অভিযুক্তসহ আটক ২

০২ মে, ২০২৬

নরসিংদী পৌরসভার চৌয়ালা এলাকায় প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে আপন বড় ভাইকে খুন করেছে তারই ছোট ভাই । শনিবার সকাল ৮ টায় সাটিরপাড়া এলাকার আজাদ ফিলিং স্টেশনের সামনে এই হত্যাকান্ড ঘটে।

নিহত আল-আমিন একজন মিশুক চালক। তিনি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের আতশআলী বাজার এলাকার নূর ইসলামের ছেলে।

অভিযুক্ত ছোট ভাই হাসান মিয়া, তিনিও একই পরিবারের সদস্য এবং পেশায় মিশুক চালক।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, নূর ইসলামের পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে বোন তাসলিমা বেগমকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল চৌয়ালা এলাকার বাসিন্দা হাবির ছেলে নাইম। এ নিয়ে নাইমের সঙ্গে আল-আমিনদের পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। নাইমের হুমকির মুখে একপর্যায়ে পরিবারটি নরসিংদী শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হয়।

সম্প্রতি বড় ভাই আল-আমিন ওই বিরোধের মীমাংসা করে তিন দিন আগে চৌয়ালায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। তবে ছোট ভাই হাসান এই মীমাংসা মেনে নিতে পারেননি। কেন বিরোধ মেটানো হলো এই ক্ষোভ থেকেই শুক্রবার রাতে তিনি বড় ভাইকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোর রক্ত দিয়ে আমি গোসল করব। ’

শনিবার সকালে আল-আমিন বাজার করার জন্য বাসা থেকে বের হলে সাটিরপাড়া আজাদ ফিলিং স্টেশনের সামনে ওত পেতে থাকে হাসান।

এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে হাসান কেঁচি দিয়ে আল-আমিনের পেটে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল-আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, ছোট দেবরের সঙ্গে নাইমের অনেক দিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল। পরে আমরা সবাই মিলে বিষয়টি মীমাংসা করি। কিন্তু নাইম আমার ননদ তাসলিমার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাকে বারবার ফোন দিয়ে বিরক্ত করতে শুরু করে।

একপর্যায়ে বিয়ে না করলে আমার দেবরকে হত্যা করার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর আমাদের নরসিংদী থেকে গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিন দিন আগে মীমাংসা করে আবার নরসিংদীতে আসি। কিন্তু আমার দেবর আসতে পারেনি এই কারণেই আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার আগের রাতে ফোন করে হুমকি দেয়, ‘তোর রক্ত দিয়ে আমি গোসল করব’। হাসান বলে, তুই যখন প্যাঁচ ভেঙে গেছিস, আমাদের চিন্তা করিস না, তাহলে তোর মতো ভাইয়ের দরকার নাই। আমি যদি নুরের সন্তান হয়ে থাকি, তাহলে তোর রক্ত দিয়ে গোসল করব। পরদিন সকালে বাজারে গেলে তাকে হত্যা করা হয়।

নিহতের বোন তাসলিমা বেগম বলেন, নাইম আমাকে প্রতিনিয়ত ফোন দিয়ে বিরক্ত করত। আমি কথা না বললে আমার ভাইদের মেরে ফেলার হুমকি দিত। কিছুদিন আগে লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এরপর ভয়ে আমরা গ্রামের বাড়িতে চলে যাই। নরসিংদীতে না আসলে কাজকর্ম করা যায় না, তাই ফিরে আসতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।

নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, সকালে আল আমিন নামে একজনকে আনা হলে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই আঘাতটি গভীর হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন জানান,হত্যাকান্ডের ঘটনায় ঘাতক ছোট ভাই হাসান ও নাইমকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে।