স্বর্ণের দোকানে চুরি, নৈশপ্রহরীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

০৩ মে, ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি স্বর্ণের দোকানের শাটারের তালা ভেঙে সিন্দুক চুরির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নৈশপ্রহরী ফরিদ (৪৪)-এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। ধারণা করা হচ্ছে, চুরির ঘটনা দেখে ফেলায় তাকে উঠিয়ে নিয়ে হত্যার পর মরদেহ ফেলে রাখা হয়।

শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় রামগঞ্জ পৌর শহরের পাটবাজারে নিউ আপন শিল্পালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সকালে রামগঞ্জ–হাজীগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে নৈশপ্রহরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ফরিদ রামগঞ্জ পৌরসভার মিজি বাড়ির মো. শাহাজাহানের ছেলে। তিনি রামগঞ্জ বাজারের নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রামগঞ্জ পুলিশ বক্স থেকে পাটবাজার পর্যন্ত তার দায়িত্বরত এলাকা ছিল।

বাজারের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে স্থানীয়রা জানান, এটি চুরি নয়, ডাকাতির ঘটনা। সাদা মাইক্রোবাসে একদল ডাকাত আসে। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতির ঘটনা দেখে ফেলায় নৈশপ্রহরী ফরিদকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে হত্যা করে মরদেহ হাজীগঞ্জ সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়।

 ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রূপন শীল বলেন, আমি ব্যবসা করে পরিবার নিয়ে কোনো রকমে ডালভাত খাই। আমার অঢেল টাকা নেই। ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে না। এখন আমার দোকানের শাটারের তালা ভেঙে চুরি করা হয়েছে। চোরের দল আমার স্বর্ণ ও রুপার অলংকারসহ সিন্দুকটি নিয়ে গেছে। আমাকে শেষ করে দিয়েছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। 

চাঁদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ইমারত হোসেন বলেন, সকালে অজ্ঞাত পরিচয়ে ফরিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। তার বাড়ি রামগঞ্জে। নিহতের পরিবারকে হাজীগঞ্জ থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চুরির ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কত টাকার মালামাল চুরি হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদের লাশ উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, হাজীগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে ফরিদের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। সেখানে তার ময়নাতদন্ত হবে এবং সেখানেই মামলা দায়ের করা হবে। এছাড়া বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।