সাড়ে ১২ ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়া হলো বিএনপি নেতা রেজাউলকে

০৪ মে, ২০২৬

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাড়ে ১২ ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। রবিবার (৩ মে) রাত ১২টায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা শহরের শাসনগাছার রেজাউল কাইয়ুমের বাসা থেকে আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা ও জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা।

এরপর দুপুর ১২টা থেকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা ঘেরাও করে দিনভর বিক্ষোভ করে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এ ছাড়াও প্রতিবাদ জানিয়ে নগরীর শাসনগাছা বাস টার্মিনাল অবরোধ করেছেন বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও শ্রমিকেরা। দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। পরে জেলা পুলিশ বিভাগের অনুরোধে ৩টা থেকে ঢাকাসহ আন্তঃজেলা বিভিন্ন রোডে বাস চলাচল শুরু হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে রেজাউল কাইয়ুমকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কুমিল্লার শাসনগাছা বাস টার্মিনালের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। হয়তোবা সেই কারণে আটক করা হতে পারে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সামনে দুপুর ১২টা থেকে শতাধিক নেতাকর্মী থানায় ঘেরাও করে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

এসময় তারা ‘রেজাউল ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’, ‘জেলের তালা ভাঙব, রেজাউল ভাইকে আনব’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরো দেবো রক্ত’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় থানার ভেতরে ও বাহিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান বলেন, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। তবে ওই অভিযোগটি ছিল ভিত্তিহীন। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাকে সম্মানের সঙ্গে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিকসহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তাকে ফোন ও ক্ষুদেবার্তা পাঠিও তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।