কাস্টমসে ১ হাজার ৩৯২ অডিট আপত্তি সিএজির

০৪ মে, ২০২৬

সরকারি অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম কিংবা প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূসক ও শুল্ক অনুবিভাগে ১ হাজার ৩৯২টি অডিট আপত্তি দিয়েছে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)।

সিএজি কার্যালয়ের উদ্ভাবিত অডিট বা নিরীক্ষা কার্যক্রম ডিজিটালাইজ সফটওয়্যার অডিট ম্যানেজমেন্ট এন্ড মনিটরিং সিস্টেম-২.০ (এএমএমএস) এ ওই অডিট আপত্তিগুলো প্রেরণ করা হয়েছে। যার মধ্যে বেশ পুরাতন অডিট আপত্তিও রয়েছে, যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি বলে জানা গেছে। সোমবার (৪ মে) এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সিএজি ও এনবিআরের নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন কাস্টম হাউস ও কমিশনারেটে অডিট আপত্তির মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে মোট অডিট আপত্তি রয়েছে ৪০৬টি। যার মধ্যে এসএফআই ২৪৮টি, নন-এসএফআই ১৪৯টি এবং রিপোর্টভুক্ত ৯টি। অনুরূপভাবে ঢাকা কাস্টম হাউসে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত অডিট আপত্তি ২১২টি, বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ৫৮৯টি, আইসিডি কমলাপুর কাস্টমস হাউসে ১০১টি এবং পানগাঁও কাস্টমস হাউসে ১৯টি অডিট আপত্তি নথিভুক্ত আছে। এ ছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত মোংলা কাস্টমস হাউজে ১৪৪টি আপত্তি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

অন্যদিকে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটগুলোর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত রংপুর (দিনাজপুর সার্কেলসহ) এলাকায় ২৪২টি, খুলনায় ৩৬৭টি এবং যশোরে ৪২১টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে এনবিআর প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, এএমএমএস সফটওয়্যারে অডিট আপত্তিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর একটি সমস্যা সামনে এসেছে, সেটা ডাবল এন্ট্রির অভিযোগ। এর মধ্যে প্রতিটি আপত্তি পৃথকভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং ডাবল এন্ট্রি পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, চলমান অডিট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দিষ্ট ইউজার আইডি ব্যবহার করে সকল মেমো ইস্যুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোট আপত্তির বিস্তারিত তালিকা সংযুক্ত আকারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, অডিট ম্যানেজমেন্ট এন্ড মনিটরিং সিস্টেম-২.০ (এএমএমএস)  হলো বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) কার্যালয় কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি অডিট বা নিরীক্ষা কার্যক্রম ডিজিটালাইজ করার সফটওয়্যার। এটি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অডিট আপত্তির জবাব প্রেরণ ও মনিটরিং করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

ক্রীড়া কূটনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন জাইমা রহমান

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে আরও উন্নত করতে, সঙ্গে গোটা বিশ্বের ক্রীড়া পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও সমুজ্জ্বল করতে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান যুক্ত হতে চলেছেন ‘স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি’ বা ক্রীড়া কূটনীতিতে। 

সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিলে বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবলের উদ্বোধন শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্পোর্টস ডিপ্লোমেসিতে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন। আমাদের এই স্পোর্টস ডিপ্লোমেসিতে যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য কন্যা জাইমা রহমান, ইন শা আল্লাহ।’

আমিনুল হক বলেন, ‘তিনি (জাইমা রহমান) দায়িত্ব নিলে আমাদের জন্য তা বড় উৎসাহের জায়গা হবে। স্পোর্টস ডিপ্লোমেসির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়ানো সম্ভব। এশীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘স্পোর্টস ডিপ্লোমেসির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আলাদা স্পোর্টস উইং খোলা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আরও অবদান রাখার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে।’