বাবার সামনে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের মামলায় আসামি রিমান্ডে

০৪ মে, ২০২৬

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বাবার সামনে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের মামলায় আসামি লামিন ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৪ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এই রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।

‎‎গত ২ মে লামিনকে গ্রেপ্তার হয়। ওই দিন আদালত এ আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে সোমবার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদুজ্জামান ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

‎সোমবার শুনানিকালে লামিনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

‎আসামিরপক্ষে অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করে বলেন, ‘অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটে নাই। গত ২৫ জানুয়ারি মেয়েটা ছেলেটার সাথে চলে যায়। ছেলেটার পরিবার মেয়েটাকে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেয়। এটা একটা প্রেমের ঘটনা। অপরাধ করলে দুইজনই করেছে। এখানে রিমান্ডে নেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।"

‎তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহ্ মো. শরিফুল ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘ভিডিওটা দেখলে এটা স্পষ্ট পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা ওঁত পেতে ছিল। জোরপূর্বক বাবার কাছ থেকে মেয়েটাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে, অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’ 

‎শুনানিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদুজ্জামান বলেন,‘মেয়েটার বয়স ১২ বছর। ঢাকার মতো এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এলাকার লোকজন ভীতিকর অবস্থায় আছে। এক আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপর আসামিরা গ্রেপ্তার হলে এলকাবাসী শান্তি পাবে।’

শুনানি শেষে আসামির এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। 

‎ এর আগে গত ১ মে দেড়টায় গাজীপুরের পুবাইল থানাধীন একটি এলাকা থেকে লামিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সময় অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। সে উত্তরা গার্লস স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। 

‎মামলার বিবরণ থেকে জানা যায় , গত ২২ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে পরীক্ষা শেষে বাসায় ফেরার পথে উত্তরা পূর্ব থানাধীন সেক্টর-৬ এলাকায় পৌঁছালে আসামি লামিন ইসলাম ও তার সহযোগিরা জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা উত্তরা পূর্ব থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।