০৫ মে, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ে দলীয় জার্মান শাখা বিএনপির নেতাকর্মীরা শুকরিয়া দোয়া মাহফিল ও বিজয় আনন্দ উদযাপন করেছেন।
রবিবার (৩ মে) বিএনপি জার্মানী শাখার উদ্যোগে জার্মানীর ফ্রাঙ্কফুর্টের সালবাউ ওবারআডে এই অনুষ্ঠান হয়। বিএনপি চেয়ারম্যানের বৈদেশিক বিষয়ক উপদেষ্টা উপ-কমিটির সদস্য এবং জার্মানী বিএনপির সভাপতি দেওয়ান শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং জার্মান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন দলের সহ প্রচার সম্পাদক নিজাম উদ্দিন। পরে জাতীয় ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন শিউলি ফিরোজসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন বাংলাদেশে আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে যারা গণতন্ত্র মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শামিল ছিলেন সেসব নেতাকর্মীদের ফুলের শুভেচ্ছা এবং মিষ্টি মুখ করানো হয়।
বিএনপি সরকার গঠনের পর অতি অল্প সময়ে মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন মন্তব্য করে জার্মান বিএনপির পক্ষ থেকে সভাপতি দেওয়ান শফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘দেশ বন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সাবেক যুগ্ম মহাসচিব বর্তমান বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি ও রেল ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি।
অনুষ্ঠানে যুক্ত কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, বিগত দিনে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জার্মান বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, তথাকথিত ১/১১ মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সরকার থেকে স্বৈরাচারী হাসিনার সরকারের দু:শাসনের বিরুদ্ধে জার্মান বিএনপির ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। দলের সবচেয়ে দু:সময় জার্মানি বিএনপি সময়োপযোগী সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যা বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। স্বৈরাচারের পতনের পর অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি বিজয়ী হয়ে জনবান্ধব সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করেছেন। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রাপ্ত অধিকারীদের হাতে তুলে দিয়েছেন। প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। তাই এখন সরকারের পাশে থেকে দেশ গঠনে সহযোগিতা করবেন; এমনটাই প্রত্যাশা করি।
জার্মানি বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেন, জার্মানি বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ দেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে বহুমুখী বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সম্পর্ক। বাংলাদেশের অন্যতম তৈরী পোশাক আমদানির দেশ হচ্ছে জার্মানি এবং বর্তমানে দক্ষ জনশক্তি ও বিনা টিউশন ফিতে লেখাপড়ার সুযোগ রয়েছে জার্মানিতে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হবে। বেকারত্ব হ্রাস করতে হবে। দীর্ঘদিন পর জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক জনকল্যাণমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে, এই সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সরকারও জন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে।
তারা বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর পরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা তৈরি হয় বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সেই সংকট ও সরকার সুন্দর ভাবেই মোকাবেলা করছেন, সাধারণ জনগণ বাস্তবতা অনেকাংশেই অনুধাবন করছেন।
বক্তাগণ আরো বলেন, আমরা দুর্নীতি সন্ত্রাস মুক্ত আইনের শাসনের বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। সেই আশাপূর্ণ হবে ইনশাআল্লাহ।
অন্যান্যর মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, মিজানুর রহমান ফিরোজ, সেলিম ব্যাপারী চঞ্চল, আনিসুর রহমান শামীম, জুয়েল খান, শাখাওয়াৎ হোসেন সোহাগ, মন্জুর সরকার, কাউসার শামীম, নিয়াজ হাবিব, আল আমিন রিয়াজ, হায়াতুন্নবী রুমেল, আসিফ ইকবাল ভুঁইয়া, নিজাম উদ্দিন, রেজাউল করিম অন্তর প্রমুখ।