০৫ মে, ২০২৬
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দেশটির সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসাকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছে। মিশেল ইসার বিতর্কিত এক মন্তব্যের পর লেবাননের পার্লামেন্টে হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য আলি আম্মার এই দাবি জানান।
বিতর্কের শুরু গত শনিবার (২ মে) লেবাননের টিভি চ্যানেল এলবিসিআই একটি ভিডিও প্রকাশ করার পর। যেখানে ‘অ্যাংরি বার্ড’ গেমের চরিত্র দিয়ে হিজবুল্লাহর নেতা ও যোদ্ধাদের ব্যঙ্গ করা হয়।
এতে হিজবুল্লাহর সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মারোনাইট খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মীয় নেতা বশারা রাই-কে অপমান করে ছবি শেয়ার করে। এতে খ্রিস্টান ধর্মাবলমম্বীরা ওই ধর্মীয় নেতার প্রতি সমর্থন জানান।
সোমবার (৪ মে) বশারা রাইয়ের সঙ্গে দেখা করের মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা। এরপর তিনি বলেন, ‘লেবাননে এমন কাজ অনুচিত। এটি সহাবস্থানের দেশ। যারা এমন কাজ করেছে, তাদের জন্য হয়তো লেবানন উপযুক্ত নয়—তাই তারা অন্য দেশে গিয়ে বসবাস করতে পারে।’
এই মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিত্বকারী আইনপ্রণেতা আলি আম্মার বলেন, ‘এটা লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং লেবাননের মানুষকে দেশ ছাড়তে বলার শামিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে সহজ পদক্ষেপ হতে পারে তাকে (মার্কিন রাষ্ট্রদূত) অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা।’
এদিকে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের বাহিনীর সঙ্গে ইসরাইলি সেনাদের সংঘর্ষ হয়েছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সেখানে ইসরাইলি বাহিনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, ইসরাইলি সেনারা দেইর সেরিয়ান শহরের কাছে, ইসরাইল-ঘোষিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর ভেতরে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেছিল। ওই রেখার বাসিন্দাদের সেখানে ফিরতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু তাদের যোদ্ধারা ‘শত্রু বাহিনীর ওপর গুলি চালায় এবং তাদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে’।
এদিকে জাতিসংঘ লেবাননের পরিস্থিতিকে ‘খুবই অস্থির’ বলে উল্লেখ করেছে এবং জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের ব্যাপক সামরিক তৎপরতা দেখা গেছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সপ্তাহান্তে লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল প্রত্যক্ষ করেছে যে, ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণের বিভিন্ন গ্রামের কাছে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি নাকৌরা উপকূলের কাছেও নৌ তৎপরতা অব্যাহত ছিল।’
তিনি আরও জানান, শুক্রবার আল-বাইয়াদাহ এলাকায় টহল দেয়ার সময় ইসরাইলি ট্যাংক রাস্তা আটকে দেয়, ফলে শান্তিরক্ষীদের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে।
ডুজারিক বলেন, ‘বিন্ত জবেইল জেলার আত-তিরি এলাকায় একটি ইউনিফিল ঘাঁটির দিকে ইসরায়েলি বাহিনীর মেশিনগানের গুলি আসে, যার একটি রাউন্ড ঘাঁটির ভেতরে থাকা একটি গাড়িতে লাগে।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘শান্তিরক্ষীদের কখনোই লক্ষ্যবস্তু বানানো উচিত নয়, তাদের নিরাপত্তা সব সময় নিশ্চিত করতে হবে।’
এদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন, পূর্ণ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনে বৈঠকগুলো চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, কারণ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে লড়াই চলছে।
সালাম বলেন, ‘বৈরুতে অস্ত্র সীমিত করার সিদ্ধান্ত অপরিবর্তনীয়। এখনো মূল আলোচনা শুরু হয়নি, ওয়াশিংটনের বৈঠকগুলো হচ্ছে সেই আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘লেবাননের কোনো পক্ষের সঙ্গে সেনাবাহিনীকে সংঘাতে জড়ানো প্রয়োজন নেই।’
তবে লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নবিহ বেরি বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ না হলে ইসরাইলের সঙ্গে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। তিনি দেশটির সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ শিয়া রাজনীতিবিদ এবং হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।