রংপুরে ২৫ সদস্যের অনলাইন প্রতারক চক্রের সন্ধান, গ্রেফতার ২

০৫ মে, ২০২৬

 

রংপুরে ২৫ সদস্যের এক দুর্ধর্ষ অনলাইন প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন ও চাকরিসহ বিভিন্ন উপায়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া এই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা ডিবি পুলিশ।

গতকাল সোমবার রাতে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, জেলা ডিবি পুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর সহজে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার একটি বিজ্ঞাপন অনলাইনে দেখতে পান।

বিজ্ঞাপনটি দেখে তার সন্দেহ হলে বিষয়টি তিনি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হককে জানান। পরে পুলিশ সুপারের নিদের্শনায় ডিবি পুলিশের একটি টিম তথ্য প্রযুক্তি ও সোর্সের সহায়তায় সোমবার গভীর রাতে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে নুর নবীর ছেলে মো. নুরুজ্জামান ও ইব্রাহিম আলীর ছেলে মো. খায়রুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন, আটটি সিমকার্ড, একটি ল্যাপটপ, বিকাশ লেনদেনের টালি খাতা, ভুয়া পাসপোর্টের কালার ফটোকপি সাতটি, অস্ট্রেলিয়ান ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট তিনসেট, ভুয়া অস্ট্রেলিয়ান ভিসা তিন কপি, বায়োমেট্রিক ভুয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ভুয়া অস্ট্রেলিয়ান কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার নুরুজ্জামান ও খাইরুল তাদের সহযোগীরা মিলে একটি সাইবার অপরাধী চক্র গড়ে তুলেছিল। তারা বিদেশে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি, নিশ্চিত ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত। অনলাইনে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে ক্যাসিনো জুয়া খেলাসহ অনলাইনে বিভিন্ন প্রকার অপরাধমূলক কার্যক্রম করে আসছিল। এই চক্রে কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে।

এর মধ্যে ২০ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে পুলিশ।

রংপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গ্রেফতার দুজন বিভিন্ন অনলাইন প্রতারণা ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো ২০ জনের নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে রংপুর তারাগঞ্জ থানায় এস আই জাহাঙ্গীর বাদি হয়ে একটি মামলা করেছেন। গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।