অনাস্থা ভোটে হেরে রোমানিয়ায় সরকারের পতন

০৫ মে, ২০২৬

সংসদে অনাস্থা ভোটে হেরে রোমানিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থী (ইইউ) জোট সরকারের পতন ঘটেছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ইলি বোলোজানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব পার্লামেন্টে পাস হওয়ায় ভেঙে পড়েছে দেশটির সরকার। এর ফলে দেশটিতে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে দীর্ঘ বিতর্কের পর অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ২৮১ জন আইনপ্রণেতা ভোট দিয়েছেন। বিপরীতে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়েছে মাত্র চারটি।

এর আগে, গত সপ্তাহে রোমানিয়ার বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিএসডি) এবং কট্টর ডানপন্থী বিরোধী দল ‘অ্যালায়েন্স ফর দ্য ইউনিটি অব রোমানিয়ান্স’ (এইউআর) এই অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করে। গত এপ্রিলের শেষের দিকে পিএসডি জোট সরকার থেকে নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।

ভোটাভুটির সময় বোলোজানের মধ্য-ডানপন্থী দল ন্যাশনাল লিবারেল পার্টি (পিএনএল), জোট সঙ্গী ‘সেভ রোমানিয়া ইউনিয়ন’ এবং হাঙ্গেরীয় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর দল ইউডিএমআরের সদস্যরা ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন নাটকীয়তা, মুখোমুখি মমতা-হিমন্ত
দেশটিতে বর্তমানে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা কম থাকলেও রাজনৈতিক এই অস্থিরতায় আর্থিক বাজার নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুখারেস্ট ইইউর সবচেয়ে বড় বাজেট ঘাটতি কমানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে তা কতটা রক্ষা করতে পারবে, সেটি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার ভোটের আগেই ইউরোর বিপরীতে রোমানিয়ার মুদ্রা ‘লেউ’র মান রেকর্ড পরিমাণে পড়ে যায়।

• ক্ষমতায় মাত্র ১০ মাস
১০ মাস আগে ক্ষমতায় আসা এই জোট সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচনের মাধ্যমে কট্টর ডানপন্থীদের উত্থান ঠেকানো। সরকার বাজেট ঘাটতি কমানোর কাজও শুরু করেছিল। এর ফলে দেশটি আন্তর্জাতিক রেটিংয়ে বড় ধরনের অবনমন থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যায়।

কিন্তু দেশটির সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়া ইইউ-পন্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব। সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতির ফলে সাধারণ ভোটার ও প্রভাবশালী মহলে ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বোলোজানের সঙ্গে দলটির বারবার টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এছাড়া কট্টর ডানপন্থীদের জনপ্রিয়তার চাপে নিজেদের সমর্থন হারানোর ভয়ে ছিল পিএসডি। তবে জনমত জরিপ অনুযায়ী, বোলোজানই বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা।

এদিকে, অনাস্থা প্রস্তাবকে ‘নিন্দনীয় ও কৃত্রিম’ বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বোলোজান। ভোটের আগে তিনি বলেচিলেন, মনে হচ্ছে এটি এমন সব মানুষ লিখেছে; যারা প্রতিদিন সরকারের অংশ ছিল না এবং কোনও সিদ্ধান্তে অংশ নেয়নি।

তিনি বলেন, আমি বিশাল চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছিলাম। আমি জানতাম নাগরিকরা আমাকে হাততালি দেবে না। কিন্তু আমি দেশের জন্য যা জরুরি এবং প্রয়োজনীয় ছিল তাই করেছি। কেউ কি বলতে পারেন আগামীকাল থেকে রোমানিয়া কীভাবে চলবে? আপনাদের কি কোনও পরিকল্পনা আছে?”

সরকারের পতন ঘটায় দেশটির মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট নিকুসোর দান নতুন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করবেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দলগুলোকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন এবং বোলোজানের দলের অন্য কোনও নেতা বা কোনও টেকনোক্র্যাটের অধীনে চার দলীয় ইইউ-পন্থী জোটটি পুনর্গঠনের চেষ্টা করবেন।

যদিও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন করা হলে আবারও জোটে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে বোলোজানের দল পিএনএল এখন পর্যন্ত দলটির সঙ্গে পুনরায় কাজ করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। দলের কিছু জ্যেষ্ঠ নেতা সমঝোতার পক্ষে মত দিয়েছেন।

পিএসডি নেতা সোরিন গ্রিনডানু সাংবাদিকদের বলেছেন, অনাস্থা ভোটের পরও জীবন থেমে থাকে না। আমরা মোটামুটি এই জোটই বজায় রাখতে চাই। তিনি বোলোজানকে একজন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং প্রেসিডেন্ট এই বিষয়ে পিএসডির সাথে আলোচনা করবেন বলে প্রত্যাশা করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা।