০৬ মে, ২০২৬
বাজেটে বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করা, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন। বুধবার (৬ মে) সকাল সাড়ে ১০ টায় রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধন শেষে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করেন শ্রমিকরা।

শ্রমিকদের অন্যান্য দাবি গুলো- বিড়ি শ্রমিকদের কর্ম দিবস বৃদ্ধি করা, বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করা এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ করা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিড়ি একটি দেশীয় শ্রমিক নির্ভর শিল্প। বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলসহ সারাদেশে ১৮ লক্ষ সুবিধা বঞ্চিত শ্রমিক বিড়ি কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার এই শিল্পকে ধ্বংস করতে বিদেশি সিগারেট কোম্পানীগুলোকে নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। ফলে প্রকৃত রাজস্ব প্রদানকারী বিড়ি মালিকরা অসংখ্য কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। আপনারা জানেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে বাজেটে যখন বিড়ির ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব আসত, তখন তিনি স্পষ্টভাবে বলতেন, "বিড়ি হলো গরিব মানুষের সিগারেট। যারা দিনমজুর বা রিকশাচালক, তাদের বিনোদনের উপায় খুব সীমিত। তাই বিড়ির ওপর ট্যাক্স বাড়িয়ে তাদের ওপর চাপ বাড়ানো যাবে না।" সুতরাং বর্তমান সরকারও বিড়ি শিল্প ও শ্রমিকদের কর্মরক্ষার্থে আগামী বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর শুল্ক বৃদ্ধি করবেন না বলে আমরা আশা করছি।

শ্রমিকরা আরো বলেন, বর্তমানে দেশের টোব্যাকো মার্কেটের ৮০ শতাংশ দখল করে আছে নিম্নস্তরের সিগারেট। তাই বিড়ি শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষার্থে নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধির জোর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া নানাবিধ প্রতিকূলতার মাঝে টিকে থাকা বিড়ি শিল্পের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে নকল বিড়ি। নকল বিড়িতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে এবং প্রকৃত রাজস্ব প্রদানকারী বিড়ি মালিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সুতরা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করতে হলে নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে। একইসাথে বিড়ি ফ্যাক্টরির লাইসেন্স থাকলেই ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করতে হবে।

বৃহত্তর রংপুর অঞ্চল বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত লাবলুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি। এসময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেন, সহ-সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলাম প্রমূখ।

মানববন্ধনে শ্রমিকদের হাতে হাতে “নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পনী বন্ধ করো করতে হবে, দেশিয় শিল্প রক্ষা করো, বিএটির পণ্য বর্জন করো, বহুজাতিক বেনিয়া হঁটাও বিড়ি শ্রমিক বাঁচাও, বিড়ি শিল্পের কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো ফুসফুস পড়ায় এদেশে টাকা পাচার করে বিদেশে”সহ বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন দেখা যায়।