এবার যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞায় পড়ল বাংলাদেশি কোম্পানির

০৭ মে, ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে বিদেশি নাগরিকদের রাশিয়ায় পাচার ও যুদ্ধে ব্যবহারের অভিযোগে নতুন করে ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার (৫ মে) ঘোষিত এই তালিকায় একটি বাংলাদেশি ট্রাভেল কোম্পানির নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে জনবল ও সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের প্রতারণার মাধ্যমে নিয়োগ দিচ্ছে। কাউকে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে, আবার কাউকে অস্ত্র ও ড্রোন তৈরির কারখানায় কাজ করানো হচ্ছে। এসব নেটওয়ার্কের কার্যক্রম ঠেকাতেই নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানটি হলো ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড। যুক্তরাজ্যের অভিযোগ, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি লোকজনকে রাশিয়ায় পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিল। যদিও প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে অনলাইন ট্রাভেল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচয় দেয় এবং বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং, ভিসা সহায়তা ও ট্যুর প্যাকেজ সেবা প্রদান করে থাকে।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের দাবি, উন্নত জীবনের আশায় থাকা অভিবাসীদের একটি অংশকে প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে যুদ্ধ ও সামরিক উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাশিয়ার ‘আলাবুগা স্টার্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।

এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে থাইল্যান্ড, চীনসহ বিভিন্ন দেশের কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, যাদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ড্রোন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় রাশিয়ার ‘ভিটি-৪০’ অ্যাটাক ড্রোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী পাভেল নিকিতিনের নামও রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে নিতে অসহায় মানুষদের শোষণ করা অত্যন্ত নৃশংস একটি কাজ। তার মতে, মানবপাচার ও অবৈধ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের কার্যক্রম ব্যাহত করাই এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য।

নতুন এই পদক্ষেপে আরও কয়েকজন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ সংগ্রহ করে রাশিয়ার মাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছেন পোলিনা আলেকজান্দ্রোভনা আজার্নিখ, যিনি মিশর, ইরাক, নাইজেরিয়া, মরক্কো, সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে লোকজন সংগ্রহ করে রাশিয়ায় পাঠানোর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাজ্য।

ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, ‘গ্লোবাল ইরেগুলার মাইগ্রেশন অ্যান্ড ট্রাফিকিং ইন পারসনস’ আইনের আওতায় এই প্রথম মানবপাচার ও অভিবাসনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো স্থানে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ রয়েছে।

যুক্তরাজ্য বলছে, ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং রাশিয়ার সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ানো হবে।