০৮ মে, ২০২৬
দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিদেশ সফরে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শনিবার (৯ মে) সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এটিই রাষ্ট্রপতির প্রথম বিদেশ সফর। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুইবার তার বিদেশযাত্রা আটকে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাকে ‘কঠিন সময় পার করতে’ হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সহকারী প্রেস সচিব এস এম রাহাত হাসনাত জানিয়েছেন, এটি মূলত একটি চিকিৎসাজনিত সফর। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আগে সম্পন্ন হওয়া অস্ত্রোপচারের ফলোআপ হিসেবে কেমব্রিজের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে রাষ্ট্রপতির প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
২০২৩ সালের ১ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে বিশিষ্ট কার্ডিয়াক সার্জন অধ্যাপক ডাক্তার কফিদিস থিওডোরোসের তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল। এবারের সফরে সেই অস্ত্রোপচার পরবর্তী শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩ মার্চ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আরব আমিরাত ও লন্ডনে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। ১০ দিনের সেই সফর শেষে ১৪ মার্চ দেশে ফেরার পর থেকে গত ২ বছর ১ মাস ২৫ দিন তিনি আর দেশের বাইরে যেতে পারেননি।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কারণে তার বিদেশ গমন হয়ে ওঠেনি। এবারের সফরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার সহধর্মিণী রেবেকা সুলতানাসহ পরিবারের সদস্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন।
বঙ্গভবন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আগামী ১৭ মে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে রাষ্ট্রপতির দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে এবং ১৮ মে সকালে তিনি দেশে পৌঁছাবেন।
দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রপতির এই বিদেশযাত্রা এবং কেমব্রিজের বিশেষায়িত হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি বর্তমানে বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সফরের যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে বঙ্গভবন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।