ফ্রিজ থেকে অস্বাভাবিক শব্দ? মেকানিক ডাকার আগে নিজেই করুন এই পরীক্ষা

০৯ মে, ২০২৬

বাসা-বাড়ির নিত্যপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির মধ্যে রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ অন্যতম। ২৪ ঘণ্টা সচল থাকা এই যন্ত্রটি থেকে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন ধরনের শব্দ হওয়া স্বাভাবিক। তবে সব শব্দ স্বাভাবিক নয়, কিছু শব্দ বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির আগাম সতর্কবার্তা দেয়। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে বড় ধরনের মেরামতের খরচ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজের তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণে ভেতরের প্লাস্টিক বা ধাতব অংশ সংকুচিত ও প্রসারিত হয়, যার ফলে মাঝেমধ্যে ‘ক্লিক’ বা ‘ফট ফট’ শব্দ হতে পারে। এছাড়া ডিফ্রস্টিং চক্র চলাকালীন বরফ গলে পাইপ দিয়ে যাওয়ার সময় ‘বুদবুদ’ বা ‘টিক টিক’ শব্দ হওয়াও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। স্বয়ংক্রিয় বরফ তৈরির যন্ত্র থাকলেও সামান্য শব্দ হতে পারে। যতক্ষণ ফ্রিজ সঠিকভাবে ঠান্ডা হচ্ছে, ততক্ষণ এই শব্দগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

তবে কিছু শব্দের ক্ষেত্রে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যদি কম্প্রেসার থেকে অস্বাভাবিক জোরে ‘হুহু’ শব্দ আসে বা ফ্রিজ কাঁপতে থাকে, তবে বুঝতে হবে কম্প্রেসারের ভেতরে কোনো অংশ বা স্ক্রু আলগা হয়ে গেছে। 

এছাড়া যদি ফ্রিজের ভেতরে অতিরিক্ত বরফ জমে বাষ্পীভবনকারী ফ্যানটি আটকে যায়, তবে জোরালো ‘গমগম’ শব্দ হতে পারে। এক্ষেত্রে ফ্রিজ বন্ধ করে দরজা ৭-৮ ঘণ্টা খোলা রেখে বরফ গলিয়ে ফেললে অনেক সময় সমস্যা সমাধান হয়। তবে এরপরও শব্দ না কমলে বুঝতে হবে অটো-ডিফ্রস্ট সিস্টেমে ত্রুটি রয়েছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো জোরে ‘গুনগুন’ বা বারবার ‘ক্লিক’ শব্দ হওয়া। এমনটি হলে বুঝতে হবে কম্প্রেসার অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে কিংবা অতিরিক্ত লোড নিচ্ছে। 

এক্ষেত্রে প্রাথমিক সমাধান হিসেবে কনডেন্সার কয়েল পরিষ্কার করে দেখা যেতে পারে। যদি তাতেও কাজ না হয়, তবে দ্রুত মেকানিক ডাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। সময়মতো ছোটখাটো এই রক্ষণাবেক্ষণগুলো করলে কম্প্রেসার বিকল হওয়ার মতো বড় আর্থিক ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।