ইবনে সিনা মেডিকেলের ১২ নারী শিক্ষার্থী পেলেন বোনস উপহার

০৯ মে, ২০২৬

রাজধানীর ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজে (আইএসএমসি) ১২ জন নারী শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে বোনস দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নারী শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মেডিকেলটির বোনস ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এর আগেও ৬ সেট বোনস বিনামূল্যে সংগঠনটির পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদেরকে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, প্রথম বর্ষের এনাটমি শিখতে প্রয়োজন বোনস। বোনসের জন্য মেডিকেলে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের দৌঁড়ঝাপও করতে হয়। সেইসঙ্গে ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী হারাম বোনস কেনা-বেচা। সার্বিক বিষয় মাথায় রেখে নারী শিক্ষার্থী বিনামূল্যে বোনস বিতরণের এই উদ্যোগ।

আইএসএমসি বোনস ব্যাংক নারী শাখার সভানেত্রী ডা. স্নিগ্ধা সুলতানা ঢাকা মেইলকে বলেন, ইসলামী শরীয়াহ্ অনুযায়ী বোনস কেনা-বেচা হারাম। বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে বোনস ব্যাংক চালু করা হয়েছে। আমাদের মেডিকেলেও বোনস ব্যাংক চালু করা হয়েছে। শুরুতে আমরা তেমন কাউকে অনুপ্রাণিত করতে পারিনি, তবে এখন অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছে। আমাদের ব্যাংকে মোট ১২ সেট বোনস ছিল, সেগুলো নারী শিক্ষার্থীদেরকে বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রথম বর্ষের নতুন নারী শিক্ষার্থীদের মেধাবী ও তুলনামূলক আর্থিক অবস্থা ভালো না, তাদের মাঝে বোনসগুলো দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আমাদের আরো বড় পরিসরে কাজ করার ইচ্ছা আছে। এমন ছোট ছোট প্রচেষ্টার মাধ্যমে যেমন বোনস বেচাকেনার অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ করা সম্ভব, তেমনি হারামমুক্ত, যথাযথ নৈতিকতা, সম্মান ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে জ্ঞানার্জনের পথও সুগম করা সম্ভব।

ডা. স্নিগ্ধা সুলতানা বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানে মানবদেহের গঠন আলোচনা, পর্যালোচনা এবং বাস্তবধর্মী ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের জন্য মানব কঙ্কাল কেবল গুরুত্বপূর্ণই নয়, বরং অত্যাবশ্যকীয় শিক্ষাসামগ্রী। প্রয়োজনের তুলনায় এর সরবরাহ কিছুটা দুরূহ হলেও মানব কঙ্কাল কখনোই ব্যবসায়িক পণ্য হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘শরিয়তে মানবদেহের বাজারমূল্য নির্ধারণের অনুমতি নেই। অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা মৃত্যুর পরও আদম সন্তানের দেহকে মর্যাদাবান করেছেন। তবে অনেক সমসাময়িক ফিকহবিদ শিক্ষাগত ব্যবহারের জন্য দানভিত্তিক ব্যবস্থাকে শর্তসাপেক্ষে অনুমোদনযোগ্য বলেছেন।’
এমন চিন্তা থেকেই বাংলাদেশের প্রায় অধিকাংশ মেডিকেল কলেজে দাওয়াহ সোসাইটির উদ্যোগে বোনস ব্যাংক চালুও হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বোনস নিয়ে বৃহৎ পরিসরে কাজ করার লক্ষ্যে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজের নারী শাখার কাজ শুরু হয়। ওই সময় এক সেট বোনস দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বিগত তিন বছর ধরে বিনামূল্যে বোনস দেওয়ার বিষয়ে নারী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছেন তারা।