উপাচার্যের পদত্যাগ দাবির সংবাদ সম্মেলনে বেরোবি প্রশাসনের বাধা

০৯ মে, ২০২৬

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনে কর্তৃপক্ষের বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তবে দুপুর ২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন শুরুর কিছু আগে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান উপস্থিত হয়ে আয়োজক শিক্ষার্থীদের কাছে সংবাদ সম্মেলনের অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চান এবং অনুমতি ছাড়া সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

এ সময় প্রক্টরের সাথে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ঘটনার একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা কর্মীরাসহ শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের কর্মী আখ্যা দেন এবং তিনি ছাত্রলীগের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম জানান, উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করছিলেন। কিন্তু প্রক্টরের ‘প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে’ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে সংবাদ সম্মেলন পণ্ড করে দেন। তিনি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফির বিরুদ্ধে গায়ে হাত তোলার অভিযোগও করেন।

এ সময় অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচন নিয়ে ধারাবাহিক টালবাহানা ও ব্যর্থতায় শিক্ষার্থীরা চরমভাবে ক্ষুব্ধ। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থাকা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের রক্ষার প্রবণতা, জাল সনদে চাকরির অভিযোগ ওঠা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম পাওয়া গেছে, তাই আমরা তার পদত্যাগের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলন করতে আসি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত রাফি বলেন, হাফিজুর রহমান সিয়াম ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন এবং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রলীগের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। তাই ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল পরিবেশ থেকে রক্ষায় আমরা একটি মানব বন্ধনের ডাক দেই। এসময় তারাও একই জায়গায় সংবাদ সম্মেলন করায় এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, যে শিক্ষার্থী সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল, আমি সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গন থেকে অনুমতি না নিয়েই মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলন করায় তুলে দেয়া হয় ওই শিক্ষার্থীদের।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করতে আওয়ামী দোসররা ষড়যন্ত্র করছে। তারা নানা অনিয়ম দুর্নীতির গুজব রটিয়ে পড়াশোনা পরিবেশসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চাচ্ছে।

উল্লেখ, এর আগেও নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলীর পদত্যাগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।