বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশবাসীর প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্টের বিশেষ আহ্বান

১০ মে, ২০২৬

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সাঁড়াশি চাপে পড়ে ইরানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে এবং সরকারি বাধ্যবাধকতা এড়াতে জনগণকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। 

আজ ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের এই বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি খাতের ওপর থেকে চাপ কমানোর জন্য জনগণের অংশগ্রহণ এবং সচেতন ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে সরকারকে ভবিষ্যতে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করতে হতে পারে। দেশের জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

এদিকে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট সাঘাব এসফাহানি জ্বালানি সাশ্রয়ের উপায় হিসেবে সাধারণ কিছু পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসফাহানি মনে করেন যে সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড় লিটার করে পেট্রল কম ব্যবহার করেন, তবে দেশের ওপর থেকে জ্বালানিসংকটের বোঝা অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব হবে। তিনি দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যয় পরিহার করে জাতীয় এই সংকটে পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের ফলে ইরানে জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানিতে জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা বর্তমানে তেহরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জ্বালানি সাশ্রয় করা গেলে শীতকালীন বা সংকটকালীন সময়ে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে।

সূত্র: সিএনএন